ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নরসিংদী অংশে ভূমি অধিগ্রহণে ‘সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়’ হয়েছে—এমন একটি দাবিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, যেখানে ২০১ কিলোমিটার দীর্ঘ পুরো প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা, সেখানে মাত্র ৫২ কিলোমিটারের নরসিংদী অংশে এত বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয়ের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মোট ২০১ কিলোমিটার উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে নরসিংদী জেলার অংশ ৫২ কিলোমিটার। নরসিংদীতে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য মোট আটটি এলএ (ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন) মামলা রয়েছে।
সওজ নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল রাব্বী জানান, আটটি মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটির বিপরীতে অর্থ ছাড় হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় ভূমি অধিগ্রহণ এবং প্রকল্পের কাজ কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
এদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ‘সাশ্রয়ের হিসাব’ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে অনিয়ম বা জটিলতার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
এ বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রে আরও কিছু অভিযোগ ও তথ্য প্রচলিত থাকলেও, সেগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী অংশের উন্নয়নকাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ কবে পুনরায় শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।