শিরোনাম
ক্ষুব্ধ শিক্ষক-অভিভাবক

হস্তান্তরের আগেই মাদ্রাসার নতুন ভবনে ফাটল,

হস্তান্তরের আগেই মাদ্রাসার নতুন ভবনে ফাটল,

সুলাইমান হাওলাদার, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট):

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার চর হোগলাবুনিয়া আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার নির্মাণাধীন নতুন একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দেয়াল, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন ও ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটলসহ নির্মাণত্রুটির অভিযোগে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটিতে ইবতেদায়ী ও দাখিল শাখায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। দীর্ঘদিন অবকাঠামোগত সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের দিকে কাজ শেষ হলেও ভবনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

তবে শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে চলতি বছরের ১৩ মে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে নতুন ভবনে পাঠদান ও অফিস কার্যক্রম শুরু করা হয়।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভবনের দেয়াল ও ছাদে ফাটল ছাড়াও জানালায় ছিটকিনি লাগানো হয়নি, বাথরুমের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ এবং নিম্নমানের টাইলস ব্যবহারসহ নানা কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সাইট ত্যাগ করেছে।

ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. আবুল হাসান বলেন, "ছয় বছর ধরে ভবনের নির্মাণকাজ চলেছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এবং শ্রেণিকক্ষের সংকট দেখা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে ভবনটি ব্যবহার শুরু করতে হয়েছে। ফাটলসহ বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়ে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।"

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, "আড়াই মাস আগে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সিদ্ধান্তে নতুন ভবনে ক্লাস শুরু করা হয়। ভবনের বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।"

এদিকে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তারা দ্রুত ভবনের কারিগরি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আ স ম জুলফিকার হোসেন বলেন, "ভবনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থেকে লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর