মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবসম্মত নয়; এটি কেবল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার জন্য দেওয়া একটি রাজনৈতিক কৌশল।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল ছিল ভুল। গণতন্ত্রের চর্চার পরিবর্তে দলটি ফ্যাসিবাদের পথে এগিয়েছিল। তাঁর দাবি, জুলাই গণহত্যার মাধ্যমে দলটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক পরাজয় চূড়ান্ত হয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যদি দেশে ফেরার মতো পরিস্থিতি থাকে, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? তিনি চাইলে এখনই দেশে আসতে পারেন।” তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের ঘোষণা মূলত দলীয় কর্মীদের মধ্যে আশা ও উদ্দীপনা ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি শুধু রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জনের বিষয় নয়। জনগণের গ্রহণযোগ্যতা, সাংস্কৃতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সফট পাওয়ার—এসবও রাজনৈতিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণহত্যার পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ নেই। তাঁর মতে, শুধু একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বা সংঘাতের মাধ্যমে দলটি পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে পারলে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে, অন্যথায় তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই।
আওয়ামী লীগের সামাজিক প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলেও মন্তব্য করেন ইশরাক। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতি রয়েছে। তাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হলে তা আওয়ামী লীগের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশত্যাগের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব সাধারণ নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে রেখে দেশ ছেড়ে চলে গেছে, যা তাদের রাজনৈতিক চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করার সমালোচনা করে ইশরাক হোসেন বলেন, বাস্তবে পরাজিত হয়েছে আওয়ামী লীগই এবং জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
‘জুলাই হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়ের চেয়ে সামাজিক পরাজয় বেশি’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)-এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।
প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক আরিফুজ্জামান মামুন, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল ও সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন। শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।