২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ঠাকুরগাঁও জেলার পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও অনভারদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়, রাণীশংকৈল উপজেলার মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং হরিপুর উপজেলার তাওরিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১৭ হাজার ৬৮৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯ হাজার ৮৮৬ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় ৮ হাজার ৯৩৩ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪ হাজার ৪৯৭ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৫০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অন্যদিকে ৮ হাজার ৭৫১ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ হাজার ৩৮৯ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৬১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
এবার ঠাকুরগাঁও জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ হাজার ৪৬৪ জন শিক্ষার্থী।
জেলা শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটিতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই কম। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র এক-দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় তাদের সবাই অকৃতকার্য হলে পুরো প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্যে নেমে যায়। এ ছাড়া অনিয়মিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট, প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান এবং একাডেমিক তদারকির ঘাটতিকেও ফল বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষার্থী কম হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল ফলাফল হলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদান ও তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।
ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিসার শাহিন আক্তার বলেন, “কেন এসব প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল হলো, তার যৌক্তিক কারণ দর্শাতে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সার্বিক একাডেমিক মান উন্নয়নে তদারকি বাড়ানো হবে।”