গাজীপুরের কালীগঞ্জে শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন মেয়ের জামাই মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকার।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে কালীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন উপজেলার জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে মোজাম্মেল হক।
এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে কলা নিয়ে জামালপুর বাসাইর বাজারে যাওয়ার পথে ভাঙারিপট্টি গলিতে ইলিয়াসের দোকানের সামনে শ্বশুর মজিদ মোড়লকে (৭০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত মজিদ মোড়ল জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আলকু মোড়লের ছেলে। তিনি পেশায় কলা ব্যবসায়ী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে মজিদ মোড়লের মেয়ে শাহানারার সঙ্গে মোজাম্মেল হকের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মোজাম্মেল তাঁর স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, যৌতুকের টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মোজাম্মেল ধারালো কুড়াল দিয়ে মজিদ মোড়লের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে মো. লিটন মোড়ল বাদী হয়ে মোজাম্মেল হককে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ। এর মধ্যেই শনিবার সকালে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন মোজাম্মেল হক।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছিল। শনিবার সকালে তিনি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।