শিরোনাম

ব্যাংক ঋণের তথ্য গোপন করে জমি দখল, ১১ মাস পর আদালতের মাধ্যমে বুঝে পেলেন নিলাম ক্রেতা

ব্যাংক ঋণের তথ্য গোপন করে জমি দখল, ১১ মাস পর আদালতের মাধ্যমে বুঝে পেলেন নিলাম ক্রেতা

ব্যাংকের নিলামে কেনা জমি নিয়ে বিরোধের ১১ মাস পর আদালতের মাধ্যমে পুনরায় দখল বুঝে পেয়েছেন নিলাম ক্রেতা রুবেল হোসেন দুলাল। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুরে আদালতের নির্দেশে জমিটির সীমানা নির্ধারণ করে তাঁকে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ঢাক-ঢোল পিটিয়ে এবং বাঁশে লাল কাপড় টানিয়ে জমিটি বুঝিয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

জানা যায়, ২০২১ সালে দি প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে ফরিদপুর শহরের ১২৮ নম্বর রঘুনন্দনপুর মৌজার ৬৯ দশমিক ৫ শতক জমি কিনে নেন জেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা রুবেল হোসেন দুলাল। নিলামে নয়জন অংশ নিলেও তিনি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে জমিটি কিনেছেন বলে জানান।

নিলামের পর তৎকালীন সময়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের মাধ্যমে তাঁকে জমিটির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

রুবেল হোসেন দুলালের দাবি, জমিটির বিপরীতে ঋণগ্রহীতা ছিলেন আরিফুর রহিম গং। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের ঋণ ও নিলামের তথ্য গোপন করে তাঁরা আদালতে মামলা করেন। প্রায় ১১ মাস আগে ওই মামলার মাধ্যমে তাঁদের এক পক্ষ জমিটির দখল নেয়।

পরে রুবেল হোসেন দুলাল আদালতে আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের পর তদন্ত শেষে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর সদর আদালতের সিভিল জজ মো. সালাউদ্দিন জমিটির দখল নিলাম ক্রেতা রুবেল হোসেন দুলালকে বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রুবেল হোসেন দুলাল বলেন, ‘২০২১ সালে দি প্রিমিয়ার ব্যাংক নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে আমি নিলামে অংশ নিই। নয়জনের মধ্যে আমি জয়ী হই। কিন্তু প্রায় ১১ মাস আগে মর্গেজদাতা আরিফুর রহমান গংয়ের চার ভাই বাদী-বিবাদী সেজে আদালতে মামলা করেন। ব্যাংকঋণের তথ্য গোপন করে তাঁদের এক পক্ষ জমিটির দখল নেয়। পরে আমি আদালতে আবেদন করি। ব্যাংকের তথ্য গোপনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আজ আদালতের মাধ্যমে জমিটি বুঝে পেয়েছি। আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।’

সরেজমিনে দেখা যায়, জমিটি বর্তমানে জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এর এক পাশে পাকা সড়ক। সড়কের পাশে লোকজনের উপস্থিতিতে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। একপর্যায়ে বাঁশে লাল কাপড় টানিয়ে জমিটির সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পরে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জমিটি বুঝিয়ে দেন জেলা জজ আদালতের নাজির এ কে এম রফিক উদ্দিন।

এ কে এম রফিক উদ্দিন বলেন, নিলাম ক্রেতা ও প্রকৃত মালিক দখলনামা দেওয়ার পর আদালতের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তদন্তে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সদর আদালতের সিভিল জজ তাঁকে ১৫ দিনের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর