সাতক্ষীরায় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যেই সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন চলাকালে তাঁর প্রত্যাহারের খবর আসে। পরে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ৮ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার ঘোনা এলাকায় একটি মুঠোফোনের কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি ও সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনজুরুল আলম বাপ্পীসহ ১০ জনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলায় আহতদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হামলার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। আহত মনজুরুল আলম বাপ্পীর অভিযোগ, কল রেকর্ডের বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় লাঠি ও লোহার রড ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর সদর থানার তৎকালীন ওসি মো. মাসুদুর রহমান জানিয়েছিলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গত ১৩ আগস্ট সদর উপজেলা ছাত্রদল ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সদর থানায় প্রবেশ করেন। পরে থানার ভেতরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে ওসির পদত্যাগ দাবি করেন তাঁরা। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার ওসি প্রত্যাহারের দাবিতে শহরে মানববন্ধন করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। মানববন্ধন চলাকালে ওসি মো. মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহারের খবর আসে। পুলিশ সুপার বিষয়টি নিশ্চিত করলে আন্দোলনকারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আন্দোলনকারীরা ওসি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের জন্য পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো কর্মকর্তা স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডে মদদ দিলে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
তবে ওসি মো. মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কারণ এবং তাঁর স্থলে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।