শিরোনাম

নোবিপ্রবিতে ল্যাবরেটরি স্কুল ও ইন্টার্নশিপে ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা

নোবিপ্রবিতে ল্যাবরেটরি স্কুল ও ইন্টার্নশিপে ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিদ্যালয় ইন্টার্নশিপ বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও শিক্ষা উপকরণ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। একই সঙ্গে ইন্টার্নশিপ করা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে ভাতা দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সেমিনার কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক মো. শাহরিয়ার শফিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ওয়ালিউর রহমান আকন্দ। প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ইন্টার্নশিপ শ্রেণিকক্ষে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষকতা ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতার পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলিও বিকশিত হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে সাতটি বিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ করছেন। তবে নোবিপ্রবির নিজস্ব একটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে যেতে হবে না।

উপাচার্য বলেন, ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি দৃশ্যমান হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় এটিকে একটি মডেল স্কুল-কলেজ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

ইন্টার্নশিপে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অর্থায়নে ইন্টার্নশিপ করেন। এতে অনেক সময় অর্থসংকটের কারণে নিয়মিত ইন্টার্নশিপে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী অর্থবছর থেকে চতুর্থ বর্ষ, শেষ বর্ষ ও মাস্টার্স পর্যায়ের ইন্টার্নশিপ করা শিক্ষার্থীদের জন্য বাজেট বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ও শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিন এবং নোয়াখালী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম।

অনুষ্ঠানে ইন্টার্নশিপে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিন বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা ছাড়া শিক্ষার পূর্ণতা আসে না। ইন্টার্নশিপের জন্য শিক্ষার্থীদের ছোট বা বড় পরিসরে সম্মানী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে ইউজিসি উদ্যোগ নিতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা বেগম পপি, সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ মো. সিয়াম ও প্রভাষক মো. মোকাররম হোসেন।

সভায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আমন্ত্রিত অতিথি ও শিক্ষকরা। পরে শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন শিক্ষোপকরণ প্রদর্শন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর