জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলে আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রায় ২ কোটি কেওড়া গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেওড়ার বীজ সংগ্রহ করে সেগুলো থেকে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশালসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় এসব চারা রোপণ করা হবে। শীতের শুরুতে সমুদ্র ও উপকূলীয় নদ-নদীর পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় জোয়ার-ভাটাপ্রবণ এলাকায় কেওড়া চারা রোপণ সহজ হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উপকূলের মানুষ। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি কমাতে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গাছপালা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কার্বন ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির তথ্য তুলে ধরে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ৩ কোটি ৫ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে আরও ২ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। অঞ্চলভেদে পরিবেশের জন্য উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে।
অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মো. মেহেদী হাসান, কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তর, মোংলার ভারপ্রাপ্ত জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. মহসিন রেজা এবং রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
.jpeg)
পরিবেশবিদদের মতে, কেওড়া একটি লবণসহিষ্ণু ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ। উপকূলীয় পরিবেশে এটি কার্বন ধারণের পাশাপাশি মাটি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেওড়া বন মাছ, কাঁকড়া, পাখিসহ বিভিন্ন জলজ ও স্থলজ প্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যশৃঙ্খলের অংশ। ফলে উপকূলীয় এলাকায় কেওড়া বনায়ন জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখতে পারে।