পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ভুটানের এক ট্রাকচালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বন্দরটির নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার ট্রাকচালক প্রতীক রায় (২৬) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার জয়গাঁও থানার দলসিংপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে।
স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে প্রবেশের সময় ট্রাক সামনে-পেছনে নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতীক রায়ের সঙ্গে বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের সিকিউরিটি গার্ড জীবন ইসলামের (২৫) কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জীবন ইসলাম ওই ট্রাকচালককে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে প্রতীক রায়সহ ভুটানের ২০-২৫ জন ট্রাকচালক বিষয়টি জানাতে বাংলাবান্ধা বিজিবি চেকপোস্টে যান। সেখানে তারা বিএসএফের কাছে অভিযোগ করার কথা জানান। এ সময় তারা উত্তেজিত হয়ে পড়লে দায়িত্বে থাকা বিজিবি চেকপোস্ট কমান্ডার নায়েব সুবেদার মিরাজুল ইসলাম তাদের বুঝিয়ে স্থলবন্দর এলাকায় পাঠিয়ে দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি সমাধানের জন্য বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ম্যানেজারকে জানান তিনি।
খবর পেয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নরেশ চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

পরে অভিযুক্ত সিকিউরিটি গার্ড জীবন ইসলাম নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। এরপর উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের হাত মিলিয়ে ও কোলাকুলি করিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিকিউরিটি গার্ডের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্টের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ ঘটনায় দুইজনই আহত হয়েছেন। পরে দুইজনকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।’
তেঁতুলিয়া মডেল থানার এসআই নরেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরিস্থিতি শান্ত করার পর ওই সিকিউরিটি গার্ড নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে।’
পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বলেন, ‘ভুটানের ট্রাকচালক ও বন্দরের সিকিউরিটি গার্ডের মধ্যে ঘটনার পর ভুটানের চালকরা বিজিবিকে বিষয়টি জানান। বিজিবি সদস্যরা তাদের স্থলবন্দরে যেতে বলেন এবং বন্দর ম্যানেজারকে বিষয়টি সমাধানের জন্য জানান। পরে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।’