নীলফামারীর সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বিভাগে এনডিআর প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৪ কোটি ৬ লাখ টাকার প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের তত্ত্বাবধানে এনডিআর প্রকল্পের আওতায় ৯৯৩ দশমিক ৬০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ, সাতটি সাইফন নির্মাণ এবং দুটি আবাসিক কলোনির সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়। এসব কাজে মোট বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি ৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে যেভাবে দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার সঙ্গে কাজের মান ও পরিমাণের মিল নেই। নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণে মাটি যথাযথভাবে কমপ্যাক্ট না করেই নিম্নমানের জিওটেক্সটাইল ফেব্রিক বিছানো হয়েছে। এরপর নির্ধারিত ৭৫ কেজির পরিবর্তে ৪০ থেকে ৫০ কেজি ওজনের ঘানি ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ঘানি ব্যাগ তৈরিতে শিডিউল অনুযায়ী ছয় ভাগ বালুর সঙ্গে এক ভাগ সিমেন্ট মেশানোর কথা থাকলেও সেখানে ১২ ভাগ নিম্নমানের বালুর সঙ্গে এক ভাগ সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
প্রকল্পের আওতায় সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ি, বাহাগিলি, বেলাইচণ্ডী ও মধুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় খড়খড়িয়া, যমুনেশ্বরী ও চাড়ালকাটা নদীর তীরে মোট ৯৯৩ দশমিক ৬০ মিটার প্রতিরক্ষা ও সতর্কতামূলক বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এসব কাজে সরকারের ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে একই প্রকল্পের আওতায় সাতটি সাইফন নির্মাণ করা হয়েছে। সাইফন নির্মাণে ১৮টি আইটেমের মধ্যে অন্তত ১২টি আইটেমে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ঢালাইয়ের আগে পাথর নেট দিয়ে চালার কাজ যথাযথভাবে করা হয়নি। ইটের কাজ ও ঢালাইয়ে প্রয়োজনীয় কিউরিং করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সিসি ব্লক স্থাপনের আগে মাটির ভিত্তি পানি দিয়ে যথাযথভাবে কমপ্যাক্ট করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।
এ ছাড়া এনডিআর প্রকল্পের আওতায় সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের দুটি আবাসিক কলোনির সংস্কার কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব কলোনিতে বর্তমানে কোনো কর্মকর্তা বসবাস না করলেও ভবন সংস্কারের নামে বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। সাব-সয়েল টেস্ট, কলোনির মসজিদ সংস্কার এবং অধিগ্রহণ করা জমির নামজারিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। এসব খাতে মোট ২৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হলেও প্রকৃত ব্যয় এর তুলনায় অনেক কম বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজের মান ও ব্যয়ের যথাযথ তদারকি না থাকায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ব্যয়, কাজের মান এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, “প্রত্যেকটি কাজে আমি উপস্থিত থাকতে পারি না। সে কারণে কাজের মানে সামান্য হেরফের হতে পারে। তবে কাজের সপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই।”
সরকারি অর্থের এমন ব্যয়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র পর্যালোচনা ও সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।