রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। তবে বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে বঙ্গভবন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।
বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের শিগগিরই দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়া এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নামও আলোচনায় আসে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এমন কিছু ঘটলে অনেক নামই আলোচনায় আসবে, এটাই স্বাভাবিক।”
সংবিধানে যা বলা আছে
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ঘোষণা বা বঙ্গভবনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।