নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রধান সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১০ মাসে প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। নির্মাণসামগ্রী সড়কে ফেলে রাখায় যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা। বৃষ্টিতে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। পাশাপাশি ধুলাবালুর কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের তামান্না মোড় থেকে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার শেরেবাংলা সড়ক এবং তুলশীরাম সড়কের বিচালী হাটি মোড় থেকে বসুনিয়া মোড় পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার শহীদ জহুরুল হক সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল প্রজেক্ট’ (আরইউডিপি)-এর আওতায় এ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি সড়কের প্রথম ৬০০ মিটার আরসিসি ঢালাই এবং বাকি ২ হাজার ৯০০ মিটার অংশে কার্পেটিং করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ফুটপাত ও সড়কবাতি নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। কাজটির দায়িত্ব পেয়েছে ‘এমএ-কেই-এসবি-জেভি’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের মনোনীত রংপুরের ‘মেসার্স শাম্মি বিল্ডার্স’ গত ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর কাজ শুরু করে।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। শেরেবাংলা সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। শহীদ জহুরুল হক সড়কে এখনো ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়নি। কোনো সড়কেই কার্পেটিং শুরু করা হয়নি। শেরেবাংলা সড়কে ড্রেন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও শহীদ জহুরুল হক সড়কে ড্রেনের কাজ মাত্র শুরু হয়েছে।
নির্মাণকাজের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বালু, ইটসহ নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলে কাদাপানি ও খানাখন্দের কারণে পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তামান্না মোড় থেকে ওয়াপদা মোড় সড়কে চলাচলকারী নওশাদ আনসারী বলেন, প্রতিদিন তাঁকে এ সড়ক দিয়ে অফিসে যেতে হয়। নির্মাণকাজের কারণে প্রচুর ধুলাবালু ওড়ে। নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় রিকশাচালকরাও এ পথে যেতে অনীহা দেখান।
গোলহাট এলাকার সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁদের এলাকায় পুরোনো ইট দিয়ে সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। তাঁর আরও অভিযোগ, আরসিসি ঢালাইয়ের পর নিয়ম অনুযায়ী পানি দিয়ে কিউরিং করা হচ্ছে না।
বাঁশবাড়ি এলাকার দুলাল হোসেন বলেন, শহীদ জহুরুল হক সড়কজুড়ে খানাখন্দ রয়েছে। অথচ সংস্কারকাজ এখনো ঠিকভাবে শুরুই হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার শামীম সাইদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সৈয়দপুর পৌরসভার প্রকৌশলী আইয়ুব আলী বলেন, সংস্কারকাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। ঠিকাদারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারও সময়মতো কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।