পঞ্চগড় সদর উপজেলায় স্বামী আলম হককে (৩০) বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাবুল হোসেন (৩৪) নামে আরও একজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের শিংরোড প্রধানপাড়া এলাকা থেকে মৌসুমীকে আটক করা হয়। নিহত আলম হক একই এলাকার তসলিম উদ্দীনের ছেলে। তাঁর সাত বছর বয়সী একটি মেয়ে ও পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে স্ত্রী মৌসুমী স্বামী আলমকে খাবার দেন। খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পেটে ব্যথা ও বমি শুরু হয় তাঁর। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে চিনি শরবত খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় মৌসুমী শরবতের সঙ্গে আরও ওষুধ মিশিয়ে আলমকে খাওয়ান।
পরে অবস্থার অবনতি হলে আলমকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে দেবীগঞ্জ এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই জাকির হোসেন প্রথমে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেন।
পরিবারের দাবি, ঘটনার একদিন পর সোমবার পরিবারের সদস্যরা মৌসুমীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে আলমের ভাগনে মকছেদুলের কাছে তিনি ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। তাদের দাবি, একই এলাকার বাবুল হোসেনের সঙ্গে মৌসুমীর প্রায় এক বছর ধরে সম্পর্ক ছিল এবং বাবুলের পরামর্শেই আলমকে ওষুধ খাওয়ানো হয়।
তবে মৌসুমীর দাবি, বাবুল তাঁকে ওষুধ দিয়ে এটিকে ঘুমের ওষুধ বলে জানিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, বাবুল তাঁর সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে ওষুধ খাওয়াতে চাপ দিয়েছিলেন।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল করিম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ভাইকে খাবার ও শরবতের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মোখলেছুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রোববার পরিবারের পক্ষ থেকে ইউডি মামলা করা হয়েছিল। সোমবার স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের স্ত্রী মৌসুমীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ইউডি মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করা হবে এবং মৌসুমীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত অপর ব্যক্তি বাবুল হোসেনকে আটক করতে পুলিশের অভিযান চলছে।