নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহীনের তিন ভাই-বোন চাকরি করছেন—এমন তথ্য সামনে এসেছে। তারা হলেন মো. বজলুর রহমান, আইভি জাহান অলকা ও সারওয়াত জাহান মিলি। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই তারা পৌরসভায় চাকরিতে যোগ দেন।
একই পরিবারের তিন সদস্যের একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি—বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, তাদের নিয়োগ কি স্বাভাবিক ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় হয়েছিল, নাকি তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব কোনো ভূমিকা রেখেছিল?
এলাকাবাসী জানায়,তিন ভাই-বোনের নিয়োগের সময় কী ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল? তারা কোন পদে আবেদন করেছিলেন? নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন কি না এবং মেধাক্রমে তাদের অবস্থান কী ছিল—এসব তথ্য এখন সামনে আসা জরুরি।
পৌরসভার একজন কর্মকর্তা জানান,বিশেষ করে নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, পরীক্ষার ফলাফল, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ ও যোগদানের নথি যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। কে কোন পদে?
তথ্য অনুযায়ী, মো. বজলুর রহমান বর্তমানে টিকাদান সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। তার দুই বোন আইভি জাহান অলকা টিকাদানকারী ও সারওয়াত জাহান মিলি কর নির্ধারনকারী পদে মাধবদী পৌরসভায় চাকরি করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. বজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা শাহীনের সঙ্গে তাদের ভাই-বোনের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কোনো অনিয়ম করে চাকরি লাভ করিনি।”
তবে তাদের নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা কেবল রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। তাই সংশ্লিষ্ট নিয়োগের সব নথি প্রকাশ ও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে শুরু করে পরীক্ষার ফলাফল এবং নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত—প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখলেই জানা সম্ভব হবে, তিন ভাই-বোনের চাকরি পাওয়ার পেছনে যোগ্যতা ও নিয়ম ছিল, নাকি রাজনৈতিক প্রভাব।
এদখন প্রশ্ন একটাই—মাধবদী পৌরসভায় একই পরিবারের তিন ভাই-বোনের চাকরি নিছক যোগ্যতার ফল, নাকি তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবের কোনো ভূমিকা ছিল?