নরসিংদী জেলা হাসপাতালে রোগীদের খাবার সরবরাহে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও মানহীন খাদ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক পরিদর্শনে নির্ধারিত মান ও পরিমাণ অনুযায়ী খাবার না দেওয়ার একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদারকির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগ অনুযায়ী খাবার সরবরাহে একাধিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে—
১. ফল সরবরাহে অনিয়ম
রোগীদের জন্য নির্ধারিত সাগর কলার পরিবর্তে নিম্নমানের “চাপা কলা” সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে পুষ্টিমান বজায় থাকছে না বলে দাবি রোগী ও স্বজনদের।
২. রুটির পরিমাণে ঘাটতি
নির্ধারিত মান অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ২০০ গ্রাম রুটি সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রায় ১০০ গ্রাম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
৩. ডিমের ওজন ও মানে ঘাটতি
নির্ধারিত ৬০ গ্রাম ওজনের ডিম সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রায় ৩০ গ্রাম মানের সমতুল্য ডিম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৪. মাছ সরবরাহে নিম্নমানের অভিযোগ
নির্ধারিত রুই বা কাতলা মাছের পরিবর্তে প্রায়ই ৩০–৫০ গ্রাম ওজনের পাঙ্গাস মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার না পাওয়ায় রোগীদের সুস্থ হতে সময় বেশি লাগছে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর আস্থা কমছে।
রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরদারির ঘাটতির সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভেঙে খাবার সরবরাহ করছে, তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে হাসপাতালের এক চিকিৎসক মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করে বলেন, “আপনি তো নিজেই সব দেখলেন।”
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।