শিরোনাম
বুড়িগঙ্গায় বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ

নারায়ণগঞ্জে নদীদূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান

নারায়ণগঞ্জে নদীদূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান

নদীদূষণ প্রতিরোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকায় নদীদূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একইসঙ্গে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে তরল বর্জ্য নির্গমনস্থল থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চল কার্যালয়ের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয় এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নীট কনসার্ন লিমিটেড, ইব্রাহীম টেক্সটাইল, আমজাদ ডাইং, রাইডার থ্রেড অ্যান্ড এক্সেসরিজ লিমিটেড এবং ফ্রেন্ডস ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সরকারি ছুটির কারণে প্রথম চারটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেগুলোতে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

ফতুল্লার ওয়াপদারপুল এলাকায় অবস্থিত ফ্রেন্ডস ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজে উৎপাদন কার্যক্রম চলমান থাকায় প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কারখানা প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বাইপাস ড্রেন থেকে উৎপাদনজনিত তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

প্রাথমিক পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকা এবং ইটিপি (Effluent Treatment Plant) ছাড়া উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর।

সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে পরিবেশ দূষণের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই দিনে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা, ঢাকা জেলা কার্যালয়, ঢাকা মহানগর কার্যালয় এবং ঢাকা গবেষণাগারের সমন্বয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন তরল বর্জ্য নির্গমনস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদী ও সংলগ্ন খাল এলাকায় অতিরিক্ত তরল বর্জ্য নির্গমনের দায়ে ১০৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের বিরুদ্ধে মোট ২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে ইটিপিবিহীন ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নদী ও জলাশয় দূষণ প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের পরিদর্শন, নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর