প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাফলার বিল। বিলজুড়ে ফুটে থাকা সারি সারি সাদা শাপলা ও পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকালের সূর্য ওঠার আগেই বিলের পানিতে ফুটে আছে অসংখ্য সাদা শাপলা ও পদ্ম। সকালের স্নিগ্ধ বাতাস, পাখির কোলাহল আর পানির ওপর ছড়িয়ে থাকা ফুলের পাপড়িতে পুরো বিল যেন রূপ নিয়েছে সাদা ফুলের মেলায়। সূর্যের সোনালি আভা পানিতে প্রতিফলিত হয়ে দৃশ্যটিকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে। অনেকেই নৌকায় বিল ঘুরে দেখার পাশাপাশি ফুলের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। নৌকায় পুরো বিল ঘুরতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা।
বাফলার বিলটি কিশোরগঞ্জ উপজেলার রনচণ্ডী ইউনিয়নের বাফলা গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত বিলটিতে রয়েছে প্রায় ৩৫০ বিঘা খাসজমি। বর্ষা মৌসুমে বিলের মাছ ধরে কয়েকশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। শীত মৌসুমে বিলটি অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে। আবার গ্রীষ্মে পানি শুকিয়ে গেলে স্থানীয়রা সেখানে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেন।
বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা কলেজছাত্রী তানিয়া হোসেন বলেন, “ফেসবুকে বাফলার বিলের সৌন্দর্যের ছবি ও ভিডিও দেখেছি। ফুল আমার খুব পছন্দ। তাই এখানে ঘুরতে এসেছি। নৌকায় ঘুরেছি, ছবি তুলেছি—অনেক ভালো লেগেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরই বাফলার বিলে পদ্ম ও শাপলা ফুল ফোটে। সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসেন। বিলের পাশে বসার ব্যবস্থা ও খাবারের দোকান করা হলে এটি ভালো পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।
রনচণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বলেন, “বাফলার বিলটি ঐতিহ্যবাহী। স্থানীয়রা এখানে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। শীতকালে অতিথি পাখির আগমনে বিলের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। এখন পদ্ম ও শাপলা ফুলে বিলটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের নৌকায় দর্শনার্থীরা বিল ঘুরে দেখছেন। সরকারিভাবে বিলটিকে পর্যটনের উপযোগী করা গেলে এখানে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।”
কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, “বিলটির সৌন্দর্য রক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।”