ফেনীর সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে নির্যাতন এবং এর প্রতিবাদ করায় তার মায়ের ওপর হামলার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় মো. সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী আহত আছমা বেগম। তিনি ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলি আদালতে ফৌজদারি মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আছমা বেগমের মেয়ের সঙ্গে ফেনী পৌরসভার সুলতানপুর এলাকার মো. সাইফুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জুন ২০২৬ যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে গৃহবধূর দিকে একটি চায়ের কাপ ছুড়ে মারা হয়। এতে তার বাম চোখের নিচে আঘাত লাগে। পরে তিনি যৌতুক নিরোধ আইনে আদালতে মামলা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই মামলার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আছমা বেগমের ওপর হামলা চালানো হয়। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার ডান হাতে গুরুতর জখম হয়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত আছমা বেগমকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তার হাতে সেলাই দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের কথা উল্লেখ থাকলেও এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সেগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।