চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অন্তত ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় তাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জমির মো. হাসিবুস সাত্তার ও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, অন্যান্য দিনের মতো রোববারও স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের ডিম ও বনরুটি দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর একে একে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বেশি অসুস্থদের হাসপাতালে নেওয়া হলে মোট ১১ জনকে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের পেটে ব্যথাসহ খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিভিন্ন উপসর্গ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে খাবার খাওয়ার পরই অসুস্থতার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সবাই আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
অসুস্থ এক শিক্ষার্থীর বাবা জহুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার বিদ্যালয়ে খাবার দিচ্ছে। কিন্তু খাবারের মান নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদ্ধতিতে মান যাচাই করা প্রয়োজন। খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সরকারের এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সরবরাহ করে বেসরকারি সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কর্ম—গাক। শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংস্থাটির জেলা সমন্বয়কারী কবির হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এর আগেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চারটি বিদ্যালয়ে গাকের সরবরাহ করা খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং খাবারের নমুনা পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।