মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ধৈঞ্চা চাষ। কৃষি বিভাগের উদ্যোগ ও কৃষকদের আগ্রহে চলতি মৌসুমে ধৈঞ্চার আবাদ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উপজেলায় ১৭ হেক্টর জমিতে ধৈঞ্চার আবাদ হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হেক্টরে। বর্তমানে উপজেলার ৮ শতাধিক কৃষক রাসায়নিক সারের নির্ভরতা কমাতে এ ফসল চাষ করছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার লখপুর এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষক ফেরদৌস শেখ, হারুন বিশ্বাস, মুহিবুল ইসলাম ও দীপংকর অধিকারী প্রায় সাড়ে তিন একর জমিতে উৎপাদিত ধৈঞ্চা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে বোরো মৌসুমের জন্য সবুজ জৈবসার প্রস্তুত করছেন। এতে একদিকে মাটির জৈবগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে কমছে রাসায়নিক সারের প্রয়োজনীয়তা। পুরো কার্যক্রম তদারকি করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, মাত্র ৩ কেজি ধৈঞ্চা বীজ থেকে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কেজি পর্যন্ত সবুজ জৈবসার উৎপাদন সম্ভব। ধৈঞ্চা বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে ধরে রেখে জৈব কার্বনের পরিমাণ ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
মৌভোগ এলাকার কৃষক আজহার শেখ বলেন, ১০৪ শতক জমিতে ধৈঞ্চা আবাদ করে তিনি প্রায় ৫ হাজার কেজি সবুজ জৈবসার পেয়েছেন। এই জৈবসার বোরো ধান ও বিভিন্ন সবজি চাষে ব্যবহার করে ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে বেশি দামও পাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ধৈঞ্চা মাটির উপকারী অণুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখে। কৃষি অফিসের পরামর্শে দুই বা তিন ফসলি জমিতে বছরে অন্তত একবার ধৈঞ্চা চাষের মাধ্যমে কৃষকরা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।