শিরোনাম
খামারে ৬৫টি দুম্বা

মরুর প্রাণী দুম্বা পালনে সৈয়দপুরের রবিউলের সাফল্য

মরুর প্রাণী দুম্বা পালনে সৈয়দপুরের রবিউলের সাফল্য

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে মরুর প্রাণী দুম্বা পালন করে সাফল্যের নজির গড়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা রবিউল ইসলাম। মাত্র দুটি দুম্বা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ৬৫টি দুম্বা। স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এসব দুম্বা এখন লাভজনক খামার ব্যবস্থাপনার একটি সফল উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

খামারি রবিউল ইসলাম জানান, ফেসবুক ও ইউটিউবে দুম্বা পালনের ভিডিও দেখে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরে প্রবাসী বড় ভাইয়ের পরামর্শে তুর্কি জাতের দুটি এবং পরে আরও ছয়টি দুম্বা মোট ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনেন। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে দুম্বাগুলো বাচ্চা দেওয়া শুরু করে। বর্তমানে সাড়ে তিন বছরে তাঁর খামারে দুম্বার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫টিতে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা।

তিনি জানান, প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক দুম্বার দাম দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা এবং ওজন ৫০ থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেশি হওয়ায় এ প্রাণী পালন তুলনামূলক সহজ ও লাভজনক।

সরেজমিনে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কাঠারিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, খামারে কাঁচা ঘাস, ভুসি ও খৈলসহ পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। ছাগলের মতোই দুম্বাকে এসব খাবার খাওয়ানো হয়। খামারে পাঁচজন কর্মচারী নিয়মিত কাজ করছেন, যাদের মধ্যে তিনজন নারী।

রবিউলের খামার দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। অনেকেই তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে দুম্বা পালনে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুন জানান, খামারটি দেখে তিনি উৎসাহিত হয়েছেন। তিনি তিন মাস বয়সী একটি দুম্বার বাচ্চা ৭০ হাজার টাকায় কেনার জন্য ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও দুম্বা পালনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

খামারের কর্মচারী কালু মিয়া বলেন, “এই খামারের কারণে আমাদের পাঁচটি পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। আমরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুম্বার পরিচর্যায় কাজ করি।”

রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতিটি দুম্বার দৈনিক খাবার খরচ ২০ থেকে ৩০ টাকা। সময়মতো টিকা ও পরিচর্যা করলে রোগবালাই খুব কম হয়। একটি দুম্বা বছরে সাধারণত দুটি বাচ্চা দেয়। তিন মাস বয়সেই একটি বাচ্চার ওজন ৩৫ থেকে ৪০ কেজি হয় এবং বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা।

তিনি আরও জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশ থেকেই তাঁর কাছে দুম্বার চাহিদা রয়েছে। ক্রেতারা মোবাইল ফোন, মেসেঞ্জার ও ইমোর মাধ্যমে দুম্বা দেখে অর্ডার করছেন।

নীলফামারী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক বলেন, “রবিউল ইসলাম একজন শিক্ষিত ও সফল খামারি। তিনি চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়েছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে তাঁকে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে কেউ দুম্বার খামার করতে চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর