নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সৈয়দপুর উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভাটি ডেমোক্রেসিওয়াচের ফেসিং (FACING) প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপ (জার্মানি)-এর কারিগরি সহযোগিতায় এবং কানাডিয়ান হাই কমিশন, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক শফিকুল আলম।
সভার শুরুতে ডেমোক্রেসিওয়াচের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন কো-অর্ডিনেটর মাহামুদ হাসান তালুকদার প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে যুব, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভুক্তভোগীদের জন্য সহজলভ্য সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহাজাদি, সৈয়দপুর থানার এসআই শাহিনুর রহমান, নারী ও শিশু ডেস্কের ইনচার্জ এএসআই সোহাগী আক্তার, সৈয়দপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক শওকত হায়াত শাহ, সাংবাদিক এম. আর. আলম ঝন্টু, উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন, নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সদস্য রোমানা বেগম, কাজী জাহিদ, তোফাজ্জল হোসেন লুতু, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আব্দুস সামাদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক রওনক জাহান রেনু।
এ সময় ডেমোক্রেসিওয়াচের জেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী মুজিবার রহমান, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নাদিরা আক্তার, মাঠ সমন্বয়কারী ছালমা আক্তার, মো. আর রউফসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।