নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার রামডাঙ্গা মাঝিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিক শিক্ষা অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (PEIMS)-এ শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (PEDP-4)-এর আওতায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রামডাঙ্গা মাঝিপাড়া ও মধ্য ছাতনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও ফটক নির্মাণের কার্যাদেশ পায় হাতীবান্ধাভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচএস এন্টারপ্রাইজ। অভিযোগ রয়েছে, রামডাঙ্গা মাঝিপাড়া বিদ্যালয়ের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই PEIMS-এ শতভাগ অগ্রগতি দেখিয়ে চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সীমানা প্রাচীরের গ্রিল, মূল ফটকের গেট, সাইনেজ, প্রাচীরের একটি অংশ এবং রং করার কাজ এখনো শেষ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির অভাবে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যালয় থেকে কোনো কাজ সমাপ্তির প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়নি। এরপরও কীভাবে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ হয়েছে, তা তাদের জানা নেই।
বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী মোফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার শাকিল হোসেন বলেন, “বিষয়টি না বুঝেই ভুল করেছি। দ্রুত বাকি কাজ সম্পন্নের ব্যবস্থা করছি। ভবিষ্যতে এমন হবে না।”
তবে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচএস এন্টারপ্রাইজ এবং সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী শফিউর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা হোক।