শিরোনাম

নীলফামারীতে পৃথক দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ নিহত ৩, আহত ২

নীলফামারীতে পৃথক দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ নিহত ৩, আহত ২

নীলফামারীর ডিমলা ও ডোমারে পৃথক দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিস্তা সেচ খালে ডুবে দুই শিশু এবং নসিমনের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের কাঁকরা তুহিন বাজার স্লুইচ গেট এলাকায় তিস্তা নদীর প্রধান সেচ খালে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলো—নাউতারা ইউনিয়নের কাঁকরা এলাকার আবুল হোসেনের মেয়ে পাখি আক্তার (১২) এবং একই ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকার সেলিমুর রহমানের মেয়ে সিনহা আক্তার (৪)।

স্থানীয়রা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন শিশু সেচ ক্যানেলের পাশে খেলছিল। একপর্যায়ে সিনহা পানিতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধারের জন্য তার খালা পাখি আক্তার পানিতে নামলে তিনিও ডুবে যান। শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ক্যানেলে নেমে দুজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জায়গাটি ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অন্যদিকে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে নীলফামারীর ডোমার-জলঢাকা সড়কের তিনবট এলাকায় নসিমনের ধাক্কায় শাহাজান ইসলাম (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত শাহাজান ইসলাম ডিমলা উপজেলার আমডাঙ্গা এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে। তিনি এবারের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

আহতরা হলেন—মোটরসাইকেল চালক মমিনুর ইসলাম ও লোকমান হোসেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাজান তার চাচা ও ফুফার সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ডিমলা থেকে নীলফামারী পাসপোর্ট অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে তিনবট বাজার এলাকায় জলঢাকা থেকে গরুবোঝাই একটি নসিমন ডোমারের বসুনিয়া হাটের দিকে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নসিমনটি মোটরসাইকেলের ওপর উল্টে পড়ে তিনজন চাপা পড়েন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহাজান ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মমিনুর ইসলাম ও লোকমান হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের চাচা জাহিদুল ইসলাম বলেন, শাহাজান এবার এসএসসি পাস করেছে। কিছুদিনের মধ্যে তার মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তার মৃত্যুতে পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।

দুর্ঘটনার পর নসিমনচালক পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

ডোমার থানার এসআই কাওছার আলম শাহাজানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর