নীলফামারীতে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচন ও জরিপ কার্যক্রমে সুপারভাইজার এবং তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হলেও চূড়ান্ত তালিকায় মেধাবীদের উপেক্ষা করে সুপারিশের ভিত্তিতে অধিকাংশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রকাশিত তালিকা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে ‘সকল স্তরের ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নীলফামারী সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে পরীক্ষা নেওয়া হলেও ফলাফলের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। রাজনৈতিক পরিচয় ও বিভিন্ন মহলের সুপারিশের ভিত্তিতে অনেককে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা সদ্য প্রকাশিত তালিকা থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা-কর্মী এবং সুপারিশের মাধ্যমে স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন তালিকা প্রণয়ের দাবি জানান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নীলফামারী জেলা কমিটির আহ্বায়ক আলিফ সিদ্দিকী প্রান্তরের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্যসচিব বোরহান আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রইসুল ইসলাম অম্লান এবং ইনসাফ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান।
বক্তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জরিপ ও সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি কর্মসূচির উদ্দেশ্যও ব্যাহত হতে পারে।
মানববন্ধন শেষে দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন আন্দোলনকারীরা। অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।