ফেনীর সোনাগাজীতে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে এক নারী ও এক পুরুষকে প্রায় ১৬ ঘণ্টা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল পর্যন্ত সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হালিম ডাক্তার পুলের গোড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব চরগণেশ এলাকার নুর আলমের স্ত্রী কামরুন নাহার রুমার বাড়িতে আত্মীয়তার সূত্রে বেড়াতে যান চর চান্দিয়া ইউনিয়নের অলি মাঝি বাড়ির বাসিন্দা এরশাদ উল্লাহ। রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন তাদের ঘর থেকে বের করে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে ওই নারীর গলায় জুতার মালাও পরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী চার সন্তানের মা এবং পুরুষটি দুই সন্তানের বাবা। তাদের সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ তুলে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্যও চাপ সৃষ্টি করে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খবর পেয়ে সোনাগাজী মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে।
পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় ওই নারী ও পুরুষকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে তাদের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর ও জুতার মালা পরানোর ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশ্ন উঠেছে—অভিযোগ সত্য হলেও কাউকে এভাবে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতন ও অপমান করার অধিকার কে দিল?