অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলা ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা উদ্বোধন ও সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অগ্নিকাণ্ড ও সড়ক দুর্ঘটনা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মহালছড়ি বাজারে স্থাপিত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ, পিএসসি। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।
পরে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের ওপর সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, আর্মড পুলিশ, বাজার ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
মহড়ায় বাজারে আগুন লাগলে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা, আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধে তাৎক্ষণিক করণীয় এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহারের পদ্ধতি প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণ, আহতদের নিরাপদে উদ্ধার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিভিন্ন কৌশলও শেখানো হয়।
অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মহালছড়ি বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর রাতে বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৩টি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ, পিএসসি বলেন, গত বছরের অগ্নিকাণ্ডের সময় মহালছড়িতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। এ কারণে মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে এবং বাজার ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা স্থাপনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলে এর ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
মহালছড়ি জোনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। তাঁরা নিয়মিত সচেতনতামূলক মহড়া ও অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।