চাঁদপুরে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ সাতদিন ধরে নিখোঁজ থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের ভাড়া বাসার তালা ভেঙে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের সৌরভিলা ভবনের চতুর্থ তলায় পিন্টুর বাসায় ঢুকে ঘরের মালামাল অগোছালো অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসার অধিকাংশ মালামাল আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরের মদিনা মার্কেটের এসকে শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী। নিখোঁজ অন্যরা হলেন তাঁর স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলে প্রিয়ম ও রুপম দাস। গত কয়েকদিন ধরে তাঁদের বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দুটিই তালাবদ্ধ রয়েছে।
ডিবি চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, প্রথমে পুলিশ পিন্টুর বাসায় যায়। পরে ডিবির একটি দল সেখানে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পিন্টু স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বর্ণ ব্যবসার পাওনা টাকা নিয়ে চাপের মধ্যে ছিলেন পিন্টু। এক পাওনাদার আবুল বারাকাত লিজন পাটোয়ারী দাবি করেন, পিন্টুর কাছে তাঁর স্বর্ণালঙ্কার বাবদ ছয় লাখ টাকার বেশি পাওনা রয়েছে। এ সংক্রান্ত স্ট্যাম্পে পিন্টুর স্ত্রী রিমি জিম্মাদার এবং স্থানীয় জুয়েলারি সমিতির নেতারা সাক্ষী রয়েছেন বলে জানান তিনি।
পাটোয়ারীর ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার পাওনা টাকা চাইলে পিন্টু তাঁকে ২০ দিনের সময় নেন। এরপর থেকেই পিন্টু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
চাঁদপুর জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার বলেন, পিন্টু সমিতির সাধারণ সদস্য। তাঁর পাওনাদারদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে একটি দরবারও হয়েছিল। সেখানে তাঁর ঋণের বিষয়টি জানা যায়। তবে তিনি সমিতির কার্যকরী কমিটির কেউ নন।
পুলিশ জানায়, পিন্টু দাস স্বর্ণের বন্দকি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির স্বর্ণ বন্ধক রেখে সময়মতো ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে ঋণ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর কাছে বেশ কয়েকজনের টাকা পাওনা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, পিন্টুর বন্দকি ব্যবসার পাওনাদারদের অনেকে থানায় অভিযোগ নিয়ে যোগাযোগ করছেন। এসব ঘটনায় ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের চাপে তিনি আত্মগোপনে যেতে পারেন। তবে তাঁকে খুঁজে বের করা গেলে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, পিন্টু দাসের স্থায়ী বাড়ি চট্টগ্রাম এবং তাঁর স্ত্রী রিমির বাড়ি কুমিল্লায় বলে জানা গেছে। তাঁরা নিখোঁজ নাকি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে রয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সন্ধান পাওয়ার পরই তাঁদের হঠাৎ অন্তর্ধানের প্রকৃত কারণ এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।