শিরোনাম

শ্যামনগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের অভিযোগ

শ্যামনগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের অভিযোগ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একাদশ শ্রেণির এক হিন্দু ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে বুড়িগোয়ালিনী-গাবুরা (বিজি) কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো. মাছুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছাত্রীর পরিবার ও অন্যান্য শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

শনিবার বিষয়টি ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে বিয়ে ও ধর্মান্তরের অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র ও ছাত্রীর পরিবার জানায়, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আবাদচণ্ডীপুর বনবিবিতলা এলাকার ওই ছাত্রী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক মাছুম বিল্লাহর কাছে প্রাইভেট পড়ত। এ সুযোগে শিক্ষক তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত ও প্রলোভিত করেন বলে পরিবারের অভিযোগ। একপর্যায়ে কৌশলে ওই ছাত্রীকে বিয়ে এবং ধর্মান্তরিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

ছাত্রীর বাবা দেবাশীষ কুমার গাইন বলেন, বিষয়টি আগে তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউ জানতে পারেননি। পরে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী শেফালী খাতুন বিষয়টি জানান। এরপর তাঁরা ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন।

তিনি বলেন, “শুনেছি বিয়ে হয়েছে এবং ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। তবে কোনো কাগজপত্র এখনো হাতে পাইনি। আগে মেয়েকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। এরপর প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা নেব।”

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মাছুম বিল্লাহ শ্যামনগরের চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজি কলেজের অধ্যক্ষ তপন কুমার রায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিব্রত। দুই দিন আগে ওই শিক্ষকের স্ত্রী শেফালী খাতুন তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বোঝানো হবে। তিনি তা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ঘটনাটি তাঁর জানা নেই এবং এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগও আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অভিভাবকদের কয়েকজন বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে আস্থা ও নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের দ্রুত তদন্ত ও সুরাহা না হলে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর