শিরোনাম

এনসিপির সাতক্ষীরা জেলা কমিটি ঘিরে বিরোধ, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুনর্গঠনের দাবি

এনসিপির সাতক্ষীরা জেলা কমিটি ঘিরে বিরোধ, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুনর্গঠনের দাবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাতক্ষীরা জেলা শাখার নবঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় অনুমোদিত ১০ সদস্যের কমিটিকে ‘অস্বচ্ছ’ ও ‘একপেশে’ দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পুনর্গঠন বা সংশোধন না হলে গণপদত্যাগসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড়ের আল-বারাকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় সভা থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে জাতীয় ছাত্রশক্তির সাতক্ষীরা জেলা শাখাও পৃথক বিবৃতিতে নবঘোষিত কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়।

এর আগে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি আগামী ছয় মাসের জন্য সাতক্ষীরা জেলা শাখার আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়। এতে অধ্যক্ষ মো. আখতারুজ্জামানকে আহ্বায়ক এবং কামরুজ্জামান বুলুকে সদস্য সচিব করা হয়। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে এসএম রজব আলীকে। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ নাজমুল হুদা ও সিএম নাজমুল ইসলাম।

এ ছাড়া আরাফাত হোসাইনকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব, মো. ওয়াসিউল্লাহ বাবলু ও এসএম সিরাজুল কবিরকে যুগ্ম সদস্য সচিব, মো. আখতারুল ইসলাম আখতারকে সাংগঠনিক সম্পাদক, আমিনুল ইসলামকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মো. আব্দুল জব্বারকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে।

ত্যাগীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সংগঠনের বিস্তার ও দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকা অনেক নেতাকর্মীকে উপেক্ষা করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তাদের দাবি, যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ এবং আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার ভিত্তিতে নেতৃত্ব পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।

বক্তারা বলেন, তাদের এই অবস্থান কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে নয়। বরং অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবিতে তারা অবস্থান নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা এনসিপির সাবেক সমন্বয়কারী মো. কামরুজ্জামান বুলু, বর্তমান সদস্য সচিব সিএম নাজমুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ আবদুল্লাহ, সদর উপজেলা সমন্বয়কারী মাছুম আশরাফ উদ্দীন, শেখ আল ইমরান, রফিকুল ইসলাম, বার্নাদাশ দাদা ও আবদুল্লাহ আবদুল মালেকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রশক্তিরও পুনর্বিবেচনার দাবি

অন্যদিকে জাতীয় ছাত্রশক্তির সাতক্ষীরা জেলা শাখা এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, নবঘোষিত কমিটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আন্দোলনের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাদের অভিযোগ, প্রকৃত আন্দোলনকারী ও ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কয়েকজন সদস্য সাম্প্রতিক সময়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া নেই

কমিটি নিয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর সোমবার রাত পর্যন্ত এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কিংবা সদ্য অনুমোদিত জেলা আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি সাতক্ষীরা জেলা শাখার ১০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়। এর একদিন পরই কমিটি নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধ, পুনর্গঠনের দাবি এবং গণপদত্যাগের হুঁশিয়ারি সামনে এলো।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর