স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তুমুল হট্টগোল হয়েছে। বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ সদস্যদের একাংশ প্রতিবাদ ও হইচই শুরু করলে কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ অধিবেশন। এ সময় তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রুমিন।
বুধবার ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বিএনপি সরকারের বিভিন্ন সময়ের শাসনামলের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে সংসদে হইচই শুরু হয়।
রুমিন বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট তৈরি হবে না—এমনটা হওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি নিয়েও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে হইচই করতে থাকেন।
একপর্যায়ে রুমিন বলেন, সংসদের পরিবেশ অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। তিনি দাবি করেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং বর্তমানে আচরণ আরও খারাপ হচ্ছে।
রুমিনের নির্ধারিত বক্তব্যের সময় শেষ হলে তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে তিনি মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন। এ সময় তাঁকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে বলে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
হট্টগোলের মধ্যে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ দাঁড়িয়ে রুমিনের পক্ষে প্রতিবাদ করেন। একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্যের কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে অন্য সদস্যদের বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।
ডেপুটি স্পিকার চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে উদ্দেশ করে বলেন, প্রত্যেক সংসদ সদস্যের বক্তব্য দেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। কোনো বক্তব্য অসংসদীয় হলে তা এক্সপাঞ্জ করার এখতিয়ার স্পিকারের রয়েছে। তবে বক্তব্যে বাধা দেওয়া ঠিক নয় এবং সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা চিফ হুইপের দায়িত্ব।
পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার এ বিষয়ে রুলিং দিতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও জবাব দিতে পারেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হট্টগোলের কারণে রুমিন আদৌ তাঁর বক্তব্য ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন কি না।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তাঁরা সংসদে সব সমস্যার সমাধান চান। তবে সংসদ সদস্যরা নিজেরাই সমস্যা তৈরি করলে তা সমাধান করা কঠিন।
পরে অর্থমন্ত্রী আমির মাহমুদ চৌধুরী বলেন, হট্টগোলের কারণে আলোচনার বিষয়টি তিনি বুঝতে পারছেন না। বিলের আলোচনায় অপ্রাসঙ্গিক বিষয় চলে আসায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
অধিবেশন শেষে রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করেছেন। এ ঘটনায় চিফ হুইপের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।