বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিসহ দলের বিভিন্ন কমিটিতে শূন্য হওয়া পদ পূরণে যোগ্য নেতাদের পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে সারা দেশের থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন ফরম বিতরণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৈঠক সূত্র জানায়, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ডেঙ্গু ও জ্বালানি পরিস্থিতি এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শিগগিরই থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, বৈঠকে ডেঙ্গু ও জ্বালানি পরিস্থিতি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এসব বিষয়ে দলীয়ভাবে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যায় এবং সাধারণ মানুষকে কীভাবে স্বস্তি দেওয়া যায়, সে বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে।
দলের কমিটিগুলোর শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে বৈঠক শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিভিন্ন কমিটিতে কেউ মারা গেছেন, কেউ দল থেকে দূরে সরে গেছেন আবার কেউ বহিষ্কৃত হয়েছেন। ফলে যেসব পদ শূন্য হয়েছে, সেসব পদে সংশ্লিষ্ট কমিটির অব্যবহিত নিচের পদে থাকা নেতাদের পদোন্নতি দেওয়া যায় কি না, তা গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী যাচাই করা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মনোনয়ন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রিজভী।
তিনি বলেন, যারা এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তারা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পূরণ করে জমা দিতে হবে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় স্থায়ী কমিটির মনোনয়ন বোর্ডের সভায় চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কর্মসূচি
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকাসহ সারা দেশে প্রচারপত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান রিজভী। দেশের চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এসব প্রচারপত্র তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও হাট-বাজারে আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে বিন স্থাপনের আহ্বান জানানো হবে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বাজার কমিটিগুলোকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাবে বিএনপি। প্রয়োজনে দলীয়ভাবে এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে।
রিজভী আরও বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে মশারি সরবরাহের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে দলের কাউন্সিল নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি।
আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে বক্তব্য
গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের সঙ্গে বিএনপির কোনো আঁতাত ছিল কি না—জামায়াতে ইসলামীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে রিজভী বলেন, বিএনপির কোনো জাতীয় নেতা আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেননি। কে কার সঙ্গে আঁতাত করছে, তা জনগণ জানে।
তিনি বলেন, আদালতের মাধ্যমে যে সংগঠন নিষিদ্ধ হয়েছে, তারা প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারে না। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও তিনি জানান।
বৈঠকে নতুন চার সদস্য
সরকার গঠনের পর শনিবার তৃতীয়বারের মতো জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক করে বিএনপি। বৈঠকের শুরুতে নতুন চার সদস্য—রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহকে স্বাগত জানানো হয়। দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা শেষে মির্জা আব্বাস বৈঠকে যোগ দেওয়ায় তাঁর সুস্থতা কামনা করা হয়।
শনিবার রাত ৮টার দিকে শুরু হয়ে সোয়া ৯টার পর বৈঠক শেষ হয়। এতে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নাটোর, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।