সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রশাসন শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে নোবিপ্রবির বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশনা-২০১৯’ অনুসরণের কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে—এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক ও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শ বা আলোচনা-সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা উপাত্ত প্রচার, জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী তথ্য প্রকাশ এবং কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে—এমন তথ্য বা উপাত্ত প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও প্রকাশ, কমেন্ট, লাইক ও শেয়ার থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোনো পেশাকে হেয় প্রতিপন্ন করে এমন পোস্ট এবং জনমনে অসন্তোষ বা অশান্তিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে—এমন কনটেন্ট প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, বিভ্রান্তিকর, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার এবং আদালত ও সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পক্ষে যেকোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ও কর্মকাণ্ডের প্রচার থেকেও বিরত থাকতে হবে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, এসব বিষয় লঙ্ঘন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ধারা ৪৭(৮) এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ২(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ এবং চাকরি-শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করা হয়েছে। নির্দেশনা লঙ্ঘন করা হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধির পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রচলিত অন্যান্য আইনের আওতায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে।