শিরোনাম

পঞ্চগড়ে প্রান্তিক শিশুদের পাঠ্যক্রমভিত্তিক ‘সিলেবাস থিয়েটার’ কার্যক্রম শুরু

পঞ্চগড়ে প্রান্তিক শিশুদের পাঠ্যক্রমভিত্তিক ‘সিলেবাস থিয়েটার’ কার্যক্রম শুরু

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় প্রান্তিক এলাকার শিশুদের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে নাট্যচর্চাকে যুক্ত করে ‘সিলেবাস থিয়েটার’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন গল্প ও বিষয়বস্তু নাটকের মাধ্যমে শেখার পাশাপাশি অভিনয়, গল্পপাঠ, সংগীত, উচ্চারণ, শারীরিক কসরত, মেডিটেশন, খাদ্যাভ্যাস, প্রকৃতি-পরিবেশ ও ইতিবাচক আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেবে।

সোমবার উপজেলার সারিয়ালজোত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ‘কারিগর’ এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

উদ্যোক্তারা জানান, প্রান্তিক এলাকার সাংস্কৃতিক সুবিধাবঞ্চিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর অংশ হিসেবে পাঁচটি শ্রেণির ২৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে একটি থিয়েটার ক্লাব। এর আগে শিক্ষার্থীদের সাত দিন থিয়েটার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণের পর শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন গল্প ও বিষয়বস্তু অবলম্বনে নাটক নির্মাণ করবে এবং স্কুল মাঠেই তা মঞ্চস্থ করবে। এর মাধ্যমে পাঠ্যবিষয়কে আনন্দময় ও সৃজনশীল পদ্ধতিতে শেখানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী দিনে সারিয়ালজোত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের থিয়েটার ক্লাব ‘সারিয়াল থিয়েটার’ নাট্যদল ‘বাঁশিওয়ালা’ নাটকটি মঞ্চস্থ করে। নাটকটির নির্দেশনা দেন কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার।

নাটকটিতে অভিনয় করেন আরুশা, সারা, আশরাফি, রোমিও, মেহেদী, সাদিকুল, জেসিকা, রিমি, জান্নাতি, মনি, রাতুল, ইমরান, সোহান, বাইজিদ, নিহাদ, হ্যাপি, সামিয়া, ইতি, ফয়সাল, সৌরভ ও মাহিম। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন হাবিবুর রহমান (হাবিব), প্রযোজনায় রেজাউল ইসলাম, পোশাক ও প্রপস পরিকল্পনায় ফাহিম আহমেদ এবং সংগীত পরিকল্পনায় রইসউদ্দিন।

কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার বলেন, প্রান্তিক এলাকার অনেক শিক্ষার্থী সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উপভোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। অথচ পাঠ্যক্রমেই বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক বিষয় রয়েছে। সিলেবাস থিয়েটারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবক ও এলাকার সুধীজনও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম উপভোগের সুযোগ পাবেন।

তিনি জানান, পাইলট প্রকল্প হিসেবে তেঁতুলিয়া উপজেলার ১০টি বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পরবর্তী সময়ে ১০টি নাটক নিয়ে একটি নাট্য উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, থিয়েটার একটি ‘কম্পোজিট আর্ট’। এটি শুধু নাটক বা অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; একজন অভিনেতাকে নানা যোগ্যতায় দক্ষ হয়ে উঠতে হয়। তাঁর খাবার, পোশাক, কথা বলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা ও শিল্পবোধের চর্চা করতে হয়।

তিনি বলেন, পাঠ্যক্রমের বিষয়গুলোকে থিয়েটারের মাধ্যমে প্রান্তিক শিশুদের কাছে উপস্থাপন করা হলে তাদের আত্মবিশ্বাস, মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীলতা বাড়বে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমাম রাজী টুলু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সীমা শারমিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি মকবুলার রহমানসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর