গণভোটের রায় উপেক্ষা করে প্রচলিত সংসদীয় পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে চলমান রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, মৌলিক সংস্কারের পরিবর্তে দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী মনছারের ঘাটে আয়োজিত কৃষক সমাবেশ ও গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, শুরু থেকেই সরকারকে একটি স্বাধীন ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে এনসিপি। তাঁর দাবি, গণভোটের রায় অনুযায়ী আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা উচিত। কিন্তু সরকার প্রচলিত পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে চাইছে এবং বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।’
এনসিপির সদস্যসচিব আরও বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নির্ধারিত হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে শুধু সংশোধনীর মাধ্যমে পরিবর্তন আনা হলে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের সমাধান হবে না। এ কারণেই সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি।
তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় আংশিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জুলাই সনদ ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের পরিবর্তে কেবল আংশিক সংশোধনী আনা হলে দেশ আরও গভীর সাংবিধানিক সংকটে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এর আগে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সঙ্গে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। তবে এনসিপিসহ কয়েকটি বিরোধী দল ওই প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা প্রয়োজন।
সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।