২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৮৬৭ রোগী, মেঝে-করিডোরে চিকিৎসা; ইনকিউবেটরে একটির জায়গায় তিন নবজাতক।
জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চরম বেহাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে গভীর বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমার ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এটিই সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা।”
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মন্ত্রী মিল্লাত জানান, ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে বর্তমানে ৮৬৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় বিপুলসংখ্যক রোগী মেঝে ও করিডোরে অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালের পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, একটি ইনকিউবেটরে এক নবজাতকের পরিবর্তে তিনটি করে নবজাতক রাখার বিষয়টি। পাশাপাশি হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ২০২১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা একটি ভবনে এখনও চিকিৎসাসেবা চলতে দেখে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রীর ভাষ্য, দেশের অন্য কোথাও হাসপাতালের এমন ‘হযবরল’ পরিস্থিতি তিনি দেখেননি।
উন্নয়ন প্রকল্প থেমে থাকার অভিযোগ
হাসপাতালের বর্তমান দুরবস্থার জন্য বিগত সরকারের সময়ের দুর্নীতি ও অনিয়মকে দায়ী করেন মন্ত্রী মিল্লাত।
তিনি বলেন, জামালপুরে একটি মেডিকেল কলেজ এবং ৫০০ শয্যার নতুন হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। ১০ তলা ভবনের ছয় তলা নির্মাণের টেন্ডারও হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ও ঠিকাদারের মধ্যে অনৈতিক আর্থিক সমঝোতা না হওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এমন অব্যবস্থাপনা ও নিকৃষ্ট পরিস্থিতি বিগত সরকারের আমলেই সম্ভব হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়েও বক্তব্য
এ সময় বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও সেগুলো সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউর মতো অবকাঠামো যথাসময়ে গড়ে তোলা হয়নি।
তিনি দাবি করেন, দেশকে একটি ভঙ্গুর অবস্থায় রেখে যাওয়া হলেও বর্তমান সরকারের উদ্যোগে দ্রুতগতিতে এফএসআরইউ ও এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে। ফলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।