ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের ছোড়া একটি অজ্ঞাত বস্তু সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। এতে দুজন আহত এবং কয়েকটি ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগ।
সৌদি বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগের ভাষ্য, স্থানীয় সময় শনিবার জাজান অঞ্চলের আল-তুওয়াল গভর্নরেটে ওই বস্তুটি আঘাত হানে। ঘটনার পর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র বলেন, বেসামরিক স্থাপনায় যেকোনো ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।
তবে হুতিদের দাবি, তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের শারুরাহ এলাকার একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলাটি চালিয়েছে। হুতিদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় সামরিক স্থাপনাটিই ছিল তাদের লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা বেড়েছে। হুতিদের দাবি, গত মঙ্গলবার তারা আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চলছে। সৌদি আরব ইয়েমেন সরকারের পক্ষে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিয়ে আসছে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় কয়েক বছর তুলনামূলক স্থিতিশীলতা থাকলেও গত জুলাই থেকে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
হুতিরা গত শুক্রবার ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে। এর আগে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলের দাবিও করে তারা।
এ পরিস্থিতিতে হুতিরা হরমুজ প্রণালির বিকল্প গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী আল-জাওফ, মারিব ও আল-বায়দা এলাকায় হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সংঘাতের অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে চলতি মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকও হয়েছে। বৈঠকে জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেন, ইয়েমেনের যুদ্ধ ‘নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায়ের’ দিকে এগোচ্ছে।