শিরোনাম

ভাবের গান ভাওয়াইয়া নিয়ে সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদের আসর

ভাবের গান ভাওয়াইয়া নিয়ে সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদের আসর

রাত গভীর হচ্ছিল। তবু আসন ছাড়তে চাইছিলেন না কেউ। মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলেন ভাওয়াইয়া গানের সুর। মরমি কথার আবেশে তন্ময় হয়ে ছিলেন শ্রোতারা। এভাবেই ভাওয়াইয়া গানের আসরে মুগ্ধতার এক রাত কাটল নীলফামারীর সৈয়দপুরে।

শহরের ১১৫ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সংগঠন শিল্প সাহিত্য সংসদের আয়োজনে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সংগঠনটির নিজস্ব মিলনায়তনে বসে এ ভাওয়াইয়া গানের আসর। সংগঠনের মাসিক ‘শ্রোতার আসর’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সংসদ সূত্রে জানা যায়, ভাওয়াইয়া রংপুর অঞ্চলের মানুষের প্রাণের গান। রাজবংশী জনগোষ্ঠীর জীবন, প্রেম, বিরহ ও মাটির টান থেকে উঠে আসা এ লোকসংগীতের আবেদন ছড়িয়ে রয়েছে বৃহত্তর রংপুরের পাশাপাশি ভারতের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার অঞ্চলেও। মরমি শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ, কছিম উদ্দীনসহ বহু শিল্পীর কণ্ঠে ভাওয়াইয়া গান পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

সেই ঐতিহ্যের সুরকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই শিল্প সাহিত্য সংসদের এ আয়োজন। আসরে স্থানীয় শিল্পীরা একে একে পরিবেশন করেন ভাওয়াইয়া গান। গানগুলোর মরমি কথা ও সুরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শ্রোতারা।

অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন নার্জিজ বানু, জাহিদ হোসেন সরকার, জলি আক্তার, এম. ওমর ফারুক, নবিউল, সেরাজুল ইসলাম, আ. রহিম, নাসিম সরকার ও তসলিমসহ স্থানীয় শিল্পীরা।

গানের সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন দোতারায় বিনয় কুমার রাজবংশী, বাঁশিতে সোহানুর রহমান সোহান, তবলায় জাহিদ হোসেন, কাঠিঢোলে নবিউল ইসলাম, মন্দিরায় আ. রহিম, হারমোনিয়ামে জাহিদুল ইসলাম এবং জিপসিতে ওবায়দুল হক।

ভাওয়াইয়া গানের এ আয়োজন সম্পর্কে শিল্প সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক বলেন, চর্চার অভাবে ভাওয়াইয়া গান হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ এটি রংপুর অঞ্চলের গর্ব ও ঐতিহ্যের অংশ। ভাওয়াইয়া চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ ও শানিত করতে তাঁদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এরই ধারাবাহিকতায় এ আয়োজন করা হয়েছে।

প্রবীণ সংসদকর্মী ম. আ. শামীম বলেন, ‘আমাদের লোকজ সংগীতই আমাদের আত্মপরিচয়। ভাওয়াইয়া যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ গানের চর্চা ও আগ্রহ তৈরি করতে হবে।’

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর