শিরোনাম

কাউনিয়ায় মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

কাউনিয়ায় মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার একটি মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী আবাসিক ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, বিষয়টি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসা পরিচালকের ছেলে।

অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল হাকিম (২৪) রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়া নাটারাম এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ, শিশুটির স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীরা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার পর শিক্ষক আজিজুল হাকিম ওই ছাত্রকে শরীর ম্যাসাজ করার কথা বলে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ শিশুটির। বিষয়টি কাউকে না জানাতে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শিশুটির অভিযোগ, এর আগেও তাকে একইভাবে কক্ষে ডেকে নেওয়া হতো এবং প্রতিবাদ করলে মারধরের ভয় দেখানো হতো।

গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে ওই ছাত্রকে ফের কক্ষে ডেকে নেওয়া হলে সে কৌশলে বের হয়ে বাড়িতে চলে যায় এবং স্বজনদের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে স্বজনরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিয়ে সালিশে বসার আশ্বাস দেয়। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসা পরিচালকের ছেলের জিম্মায় রেখে শিক্ষকরা সরে যান। কিন্তু সালিশে বসার আগেই সকালে আজিজুল হাকিম মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনাটি জানাজানি হলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ আইনের ধারায় শিক্ষক আজিজুল হাকিমকে আসামি করে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

ভুক্তভোগী শিশুটি অভিযোগ করে, শিক্ষক তাকে প্রায়ই রাতে কক্ষে ডেকে নিতেন। শরীর ম্যাসাজের কথা বলে খারাপ আচরণ করতেন এবং বাধা দিলে মারধরের ভয় দেখাতেন। গত সোমবার রাতে আবারও কক্ষে ডেকে নেওয়া হলে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে সে সেখান থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে যায়।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তবে বিষয়গুলো স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসা পরিচালকের ছেলে রায়হান বলেন, তিনি ওই শিক্ষককে পালাতে কোনো সহযোগিতা করেননি। কীভাবে সবার অগোচরে শিক্ষক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেন না।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর