শিরোনাম
সৈয়দপুরে ভেজাল জৈব সারের রমরমা বাণিজ্য, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক
সৈয়দপুরে ভেজাল জৈব সারের রমরমা বাণিজ্য, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল ও নিম্নমানের জৈব সার এবং মেয়াদ ও তথ্যবিহীন কীটনাশক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজাল জৈব সার উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন। একই সঙ্গে ইউরিয়াসহ বিভিন্ন সার অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে।  

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব ভেজাল সার ও কীটনাশকের ব্যবসা চলছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈয়দপুরের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক কীটনাশকের প্যাকেটে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, রেজিস্ট্রেশন নম্বর কিংবা কোম্পানির পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা উল্লেখ নেই। দস্তা, ম্যাগনেসিয়াম, বোরন, জিপসাম, কার্বোফুরান ও ডায়াজিননসহ বিভিন্ন পণ্যের মোড়কে শুধু “মেইড ইন ঢাকা”, “চীন” বা “ইন্ডিয়া” লেখা থাকলেও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী রং মিশ্রিত বালু, লাল মাটি, ছাই ও বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করে জৈব সারের নামে ভেজাল পণ্য তৈরি করছেন। পরে সেগুলো আকর্ষণীয় মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছে।

সৈয়দপুরের কৃষিবিদ আখতার হোসেন বলেন, প্রকৃত জৈব সার তৈরিতে গোবর, হাড়ের গুঁড়া, ছাই, ডিমের খোসা, কচুরিপানা ও মুরগির লিটার ব্যবহার করতে হয় এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের পর তা বাজারজাত করা যায়। কিন্তু অনেক উৎপাদক জৈব সারের নামে কেমিক্যাল মিশ্রিত অজৈব সার তৈরি করছেন।

বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভেজাল সার ও নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবহারে অনেক কৃষকের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিধুভূষণ রায় বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।