শিরোনাম
Ad Image

আলজাজিরার এক্সপ্লেইনার খামেনি কেন মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু

আলজাজিরার এক্সপ্লেইনার খামেনি কেন মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু

আলজাজিরার এক্সপ্লেইনার

খামেনি কেন মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু

বিশ্ববেলা ডেস্ক 8 ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে ফের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। গতকাল শনিবারের এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের নিরাপত্তা ও নেতৃত্ব কাঠামো। বিশেষ করে রাজধানী তেহরানে যেসব স্থানে হামলা করা হয়েছে, সেসব স্থান মূলত দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সংশ্লিষ্ট। স্বাভাবিকভাবে এতে প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি খামেনিই ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু? এ বিষয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা একটি এক্সপ্লেইনার প্রকাশ করেছে। শনিবারের হামলা কোথায় হয়েছে: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা হয়েছে। তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায়, তেহরানের উত্তরে শেমিরান এলাকায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে এবং খামেনির কম্পাউন্ডের আশপাশে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, খামেনির কার্যালয়ের কাছেও হামলা হয়েছে। খামেনি এখন কোথায়: নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। রয়টার্স এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তিনি তেহরানে নেই; তাকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খামেনি কে: ৮৬ বছর বয়সী এই ইসলামি চিন্তাবিদ ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনির হাতে সরকার, সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রয়েছে। তিনি দেশের আধ্যাত্মিক নেতাও। তার শাসনামলে ইরান পশ্চিমাদের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং দেশের ভেতরে অর্থনীতি ও অধিকার ইস্যুতে বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘এক নম্বর শত্রু’ বলে উল্লেখ করেছেন। আর ইসরায়েলকেও কাছাকাছি স্থানে রেখেছেন তিনি। খামেনির ক্ষমতার বড় ভিত্তি হলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আরআরজিসি) এবং বাসিজ বাহিনীর আনুগত্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থাও এখন পর্যন্ত ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে—এমন প্রমাণ পায়নি, যদিও ইসরায়েল ও ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু অংশ ভিন্ন দাবি করে। কেন তাকে টার্গেট করা হতে পারে: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা অতীতে খামেনিকে হুমকি দিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, খামেনির অস্তিত্ব থাকতে পারে না। কয়েক মাস আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাকে হত্যা পুরো সংঘাত ‘শেষ’ করতে পারে। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছিলেন, খামেনি ‘সহজ টার্গেট’, যদিও ‘এ মুহূর্তে’ তাকে হত্যা করা হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যা বা নেতৃত্ব কাঠামো ভেঙে দেওয়া। গতকাল হামলার পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করবে এবং ইরানিদের তাদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানাই।

সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু

আপনার মতামত লিখুন
Ad Image
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর