নির্বাচনে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে
: প্রথম পৃষ্ঠার পর এবারই জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। তার ভাষ্যমতে, এবারের নির্বাচনে তাদের তিনটি লাভ হয়েছে। প্রথমত, দলের নেতৃত্বে অর্থবহ ঐক্য গড়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব পেয়েছে। তৃতীয়ত, ছয়টি শক্তির বিরুদ্ধে সমান্তরালে লড়াই করেছে দলটি। তিনি বলেন, এই ছয় শক্তি আমাদের সঙ্গে পারত না; যদি অন্য কিছুর আশ্রয় না নিত। এখন শুধু আমরা নই, টিআইবি, সুজনসহ অনেকে বিষয়টি বলছে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, এখন থেকেই কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন ছিল আমাদের প্রথম লড়াই। দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। একটি জায়গাও যেন খালি না থাকে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকার বস্তিগুলোয় গিয়ে বড় বড় ওয়াদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব বস্তিতে টাকা, ওয়াদা, সন্ত্রাস—কোনোকিছুই কাজ করেনি। ফলাফলেও তা স্পষ্ট দেখা গেছে। এসবের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হচ্ছে—আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামীর বাংলাদেশ, মুক্তিপ্রিয় মানুষের বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আমরা থামব না ইনশাআল্লাহ, কেউ আমাদের থামাতে পারবেও না। সিলেট জেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম, নায়েবে আমির নজরুল ইসলাম বাবুল, সেক্রেটারি শাহজাহান আলী প্রমুখ। এদিকে, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামী দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল সিলেটে জুমার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। আমাদের দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। দেশের জন্য যা কল্যাণকর এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আমরা সে সিদ্ধান্তই নেব। পরে গতকাল সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর আমানুল্লাহ কনভেনশন হলে সিলেট মহানগর জামায়াতের আয়োজনে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেন ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা অনুগত বিরোধী দল হব না। শুধু বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করব না। সরকারের ভালো কাজে সমর্থন দেব। মন্দ কিছু হলে রুখে দেব। তিনি বলেন, দেশে একটা নির্বাচন হয়েছে। ফল আমরা মেনে নিয়েছি। খুশিতে হোক আর অখুশিতে হোক। আমরা অতীতের কালচারে ফিরে যেতে চাইনি যে, নির্বাচন মানি না। এ ছাড়া অতীতের বিরোধী দলের মতো শুধু অন্ধের মতো বিরোধিতা করব না। অতীতে অন্ধের মতো বিরোধিতা করে দেশের ক্ষতি করা হয়েছে। আমরা সে রকম বিরোধী দল হতে চাই না। যেটা সঠিক, সেটার সমর্থন দেব।
সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু