শিরোনাম
Ad Image

ভোলায় এবার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত

ভোলায় এবার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত

ভোলায় এবার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত

ব্যয় সাশ্রয় হবে ৯৩০ কোটি টাকা

কালবেলা প্রতিবেদক 8 দেশের দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাসকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) করে মূল ভূখণ্ডে আনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বর্তমান সরকার। এর বদলে ভোলায় গ্যাসভিত্তিক ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের কারণে সরকারের বছরে ৯৩০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দেশের দ্বীপ জেলা ভোলায় পর্যাপ্ত গ্যাস থাকলেও দীর্ঘ দিন তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কারণ, ভোলা থেকে মূল ভূখণ্ডে গ্যাস পরিবহনের জন্য কোনো পাইপলাইন বা সঞ্চালন লাইন নেই। পাইপলাইন নির্মাণ সময়সাপেক্ষ হওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ভোলার গ্যাসকে সিএনজি করে রাজধানীর বিভিন্ন শিল্প কারখানায় সরবরাহের জন্য বেসরকারি খাতে অনুমোদন দিলেও দামের কারণে শিল্প মালিকদের তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার ভোলার গ্যাসকে এলএনজি করে মূল ভূখণ্ডে আনার উদ্যোগ নেয়। বেসরকারি খাতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করলেও বিনিয়োগকারী না পাওয়ায় ব্যয়বহুল প্রকল্পটি ভেস্তে যায়। পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম এ প্রসঙ্গে কালবেলাকে বলেন, ভোলায় গ্যাসভিত্তিক ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে। পেট্রোবাংলা থেকেও সায় পাওয়া গেছে। পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভোলা থেকে এলএনজি আকারে গ্যাস আনার প্রস্তাবে প্রতি ঘনমিটারের শুধু পরিবহন খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৯০ টাকা। প্রস্তাবিত ৩০ মিলিয়ন এলএনজি পরিবহনে বছরে খরচ হবে ৯৩০ কোটি টাকা। ১০ বছরের চুক্তির বিপরীতে ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা পরিবহন খরচ পরিশোধ করতে হবে। তারা বলেন, এক ঘনমিটার গ্যাস দিয়ে ৪ থেকে ৫ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। সেই বিদ্যুৎ সঞ্চালন করে ঢাকায় আনতে খরচ পড়বে ১ টাকা ২৪ পয়সা। বিদ্যমান সঞ্চালন লাইন (ভোলা-বরিশাল) থাকায় বিদ্যুৎ পরিবহনের কোনো রকম বিনিয়োগ হবে না। কর্মকর্তারা বলেন, ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পরিবহনে বছরে খরচ হবে ৯৩০ কোটি টাকা। দুই বছরের সমপরিমাণ টাকা হলেই ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব। ২০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস প্রয়োজন হবে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে ভোলায় নতুন কেন্দ্রটি হলে রাজধানীতে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কম করলেও তখন সমস্যা হবে না। কারণ বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে। এখন পর্য়ন্ত ভোলায় ৩টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলোয় ৯টি কূপ খনন করা হয়েছে, যেগুলোর দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদা না থাকায় কমবেশি ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আরও ১৫টি কূপ খননের লক্ষ্যে কাজ করছে পেট্রোবাংলা। প্রস্তাবিত কূপ খনন শেষ করলে সেখান থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব মনে করছে বাপেক্স। ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস আনতে পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়ে কয়েক দশক আলোচনা চলে আসছে। ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইনের পরিকল্পনা থাকলেও রুট পরিবর্তন করে ভোলা-বরিশাল-ঢাকা করা হয়েছে। ভোলা-বরিশাল পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে; বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান।

সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু

আপনার মতামত লিখুন
Ad Image
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর