শিরোনাম
Ad Image

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া সরিষা ও গমের বাম্পার ফলনে মুখে হাসি কৃষকের

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া সরিষা ও গমের বাম্পার ফলনে মুখে হাসি কৃষকের

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 8 অল্প খরচে বেশি লাভ এবং ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় এবার সরিষা আর গম চাষে বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এ উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ, পাশাপাশি কৃষক উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন গম চাষেও। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় পরামর্শে এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার আবাদ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কৃষক যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা করছেন। শুধু ফলনই নয়, সরিষার হলুদ ফুলে দিগন্ত ভরিয়ে দেওয়া মাঠ এখন হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের আনন্দের জায়গা। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু হলুদের সমারোহ। শীতের শেষ প্রান্তে এসে যেন হলুদ চাদর বিছিয়ে দিয়েছে প্রকৃতি। পাশাপাশি গমের সবুজ ক্ষেতও দিচ্ছে নতুন রূপ। নানা রঙের পোশাকে ফুলপ্রেমীরা সরিষাক্ষেতে ভিড় জমাচ্ছেন ছবি আর সেলফি তুলতে। মৌমাছি আর প্রজাপতির আনাগোনা পুরো পরিবেশকে করে তুলেছে আরও মনোমুগ্ধকর। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ভাণ্ডারিয়ায় চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলায় চলিতি মৌসুমে গম আবাদে লক্ষ্য ছিল ২০ হেক্টর জমি; সেখানে প্রায় ১৯ হেক্টরে গমের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা ও গমের বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৮ ও বারি গম-৩৩ জাতের আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। কৃষক মো. খলিলুর রহমান ফরাজী বলেন, ‘বর্তমানে ভোজ্যতেলের দাম বেশি। নিজেদের চাহিদা মেটানো ও বাজারে বিক্রির জন্য এক একর জমিতে বারি-১৪ সরিষা এবং গম চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, আশা করছি ভালো লাভ হবে।’ স্থানীয় কৃষক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন গত বছরের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করছেন। বাজারদর ভালো পেলে পরিশ্রম সার্থক হবে। কৃষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এবার বিঘাপ্রতি সরিষার ফলন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারদর ঠিক থাকলে লাভও ভালো হবে।’ অন্য কৃষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা আবাদ করায় অতিরিক্ত আয় হচ্ছে। খরচ কম, লাভ বেশি।’ সরিষা ও গমক্ষেত দেখতে আসা কলেজছাত্রী আফরোজা আক্তার বলেন, ‘পুরো মাঠ হলুদ ফুলে ঢেকে গেছে, মনে হচ্ছে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেছি। ছবি তোলার জন্য দারুণ পরিবেশ।’ এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সরিষা ও গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণের পাশাপাশি উঠান বৈঠকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগবালাই প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি করছে কৃষি বিভাগ।

সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু

আপনার মতামত লিখুন
Ad Image
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর