শিরোনাম
Ad Image

ঝরঝর করে ভেঙে পড়ল কাঁচা ঘরের টালি

ঝরঝর করে ভেঙে পড়ল কাঁচা ঘরের টালি

ঝরঝর করে ভেঙে পড়ল কাঁচা ঘরের টালি

সাতক্ষীরা ও কয়রা প্রতিনিধি 8 দেশের দক্ষিণের উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার তালা উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল সরদার। আহলে হাদিস সম্প্রদায়ের এই পরিবারের নারী-পুরুষ সব সদস্যই গতকাল শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন বাড়ির পাশের মসজিদে। এরই মধ্যে হঠাৎ টের পান ভূমিকম্পের কম্পন। ভালোমতো কিছু আন্দাজ করে ওঠার আগেই মসজিদ থেকেই  বাড়ির কাঁচা ঘরের চালের টালি ঝরঝর করে ভেঙে পড়ার শব্দ কানে আসে। আতঙ্কিত হয়ে মসজিদের মধ্যেই সবাই অবস্থান করেন। কিছু সময় পর গিয়ে দেখেন ঘরের ছাউনির সব টালি ভেঙে পড়ে রয়েছে নিচে। তবে নামাজের জন্য সবাই মসজিদে থাকায় সৌভাগ্যক্রমে পরিবারের কোনো সদস্যই হতাহত হননি। গতকাল শুক্রবার দুপুরের এই ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে সাতক্ষীরাসহ গোটা দেশ। দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে কয়েক সেকেন্ডের ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে আতঙ্কিত হয়ে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন লোকজন। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়ন। এই ভূমিকম্পে পুরো সাতক্ষীরা জেলার মানুষ তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন। মসজিদে অবস্থান করা অনেকে আতঙ্কিত হয়ে বেরিয়ে আসেন। এটা স্মরণকালের সর্বোচ্চ ভূমিকম্প বলে দাবি করেছেন জেলার লোকজন। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, উৎপত্তিস্থল জেলার ভেতরে হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশি এবং ঝাঁকুনিও ছিল প্রবল। দুপুরের এই ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। জুমার নামাজের সময় হওয়ায় অনেক মুসল্লি মসজিদে ছিলেন। হঠাৎ মসজিদ দুলতে শুরু করলে অনেকে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। শহরের কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা রোকসানা আক্তার বলেন, ‘হঠাৎ মনে হলো ডান-বাঁদিকে ঢলে পড়ছি। বুঝতে পেরে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যাই।’ একই এলাকার জাহারুল ইসলাম টুটুল জানান, মসজিদ দুলতে শুরু করলে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে পড়ার চিত্র তুলে ধরে সোহাগ হোসেন বলেন, ‘জুমার নামাজ আদায় করে বাসায় ফিরেছি। মাত্র পাঞ্জাবি খুলেছি, এমন সময় হঠাৎ চারপাশ কেঁপে উঠল। ড্রেসিং টেবিল, ফ্রিজ সব দুলছে। মুহূর্তের মধ্যে বুঝলাম, এটা ভূমিকম্প। জীবনে এই প্রথম এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম। কয়েক সেকেন্ড হলেও সময়টা যেন থমকে গিয়েছিল—মনে এক অজানা শঙ্কা, বুকের ভেতর ধুকপুকানি।’ এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও জেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মিলেছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা শ্মশানঘাটের প্রাচীরের একটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামে কয়েকটি কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক ধসে পড়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক বাড়ির দেয়ালে ফাটল ধরেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কয়রা উপজেলার ৫নং কয়রা গ্রামের বাসিন্দা আবুল ইসলাম শেখ জানান, তার জীবদ্দশায় ভূমিকম্পে এমন তীব্র কম্পন কখনো অনুভব করেননি। সাতহালিয়া গ্রামের বায়োজিদ হোসেন জানান, ভূমিকম্পে তাদের গ্রামের সাতহালিয়া হাফিজিয়া জামে মসজিদের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়রার বয়োবৃদ্ধ মাওলানা নাসির উদ্দীন বলেন, ‘মসজিদে নামাজ পড়ার সময় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। পুরো মসজিদ কম্পনে কেঁপে ওঠে। মুসল্লিরা সব দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।’ জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার কালবেলাকে বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু

 

আপনার মতামত লিখুন
Ad Image
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর