শিরোনাম
Ad Image

বগুড়ায় শুরু ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন ১০ মার্চ

বগুড়ায় শুরু ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন ১০ মার্চ

বগুড়ায় শুরু ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন ১০ মার্চ

: শেষ পৃষ্ঠার পর কর্মসূচি একত্রিত করা যেতে পারে। উপকারভোগী নির্বাচনে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল ফোন নম্বর বাধ্যতামূলক হবে। এ ছাড়া দ্বৈত সুবিধা রোধে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে আন্তঃসংযোগ থাকবে। প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডে পাঁচজন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বড় পরিবারের ক্ষেত্রে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে। একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ভাতা পেতে পারবেন। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। অনুদানের অর্থ ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। নারীরা খানাপ্রধান হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন এবং অন্য ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের সুবিধা থাকবে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গতকাল তার বগুড়ার কর্মসূচিতে বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধনের জন্য বগুড়ায় আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১০ মার্চ তিনি বগুড়ায় আসবেন বলে জানা গেছে।’ ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন করা হয়েছে। সম্ভাব্য সুফলভোগী পরিবার বাছাইয়ে এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবার নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গতকাল শিবগঞ্জ উপজেলায় ১০ কোটি টাকার দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় শিশু পার্ক চত্বরে আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রতিমন্ত্রী। জানা যায়, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্মিতব্য এই ডাকবাংলো সরকারি কর্মকর্তা, অতিথি ও আগতদের জন্য মানসম্মত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি টাকা। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার সরকার স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ ছাড়া দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হাতিবান্ধা-অনন্তবালা সড়কের মহাস্থানগড়ের শীলাদেবী ঘাট এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর ৫৯০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার (ঝুলন্ত) সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সেতুটি নির্মিত হলে করতোয়া নদী-তীরবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি কমবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগীদের চলাচল সহজ হবে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ: বগুড়ায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের প্রস্তুতি চলছে। এজন্য সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গোপালবাড়ি গ্রামকে বেছে নেওয়া হয়েছে। বগুড়ায় এই কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে পৃথক জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও কমিটি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা জানান, কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। একটি ওয়ার্ডে যত পরিবার যোগ্য বিবেচিত হবে, তাদের সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে চার মাস পাইলট কার্যক্রম চলবে। পরে ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি দেশের প্রতিটি উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের বগুড়ার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গত বৃহস্পতিবার গোপালনগর গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। এদিন সকালে গ্রামের মসজিদগুলো থেকে মাইকে মাইকে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সামজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করার অনুরোধ জানানো হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, ৪৮ কর্মঘণ্টার মধ্যে তথ্য সংগ্রহ শেষ করা হবে এবং তারপর প্রাপ্ত তথ্যগুলো কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই-বাছাই শেষে পরিবারগুলোর যেসব নারী অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবেন তাদেরই আগামী ১০ মার্চ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। তথ্য সংগ্রহকারীরা জানান, গোপালবাড়ি গ্রামে ৮০৫টি খানা বা পরিবার রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের নীতিমালা অনুযায়ী তারা প্রতিটি খানায় গিয়ে পরিবারের নারীদের কাছে গিয়ে তাদের নাম, ঠিকানা, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, আর্থিক অবস্থার বিবরণ এবং সরকারের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পান কি না, তার বিবরণসহ নির্ধারিত ৪৭টি প্রশ্নের উত্তর লিপিবদ্ধ করছেন। সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘প্রতিটি খানার নারী প্রধানরাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে তাদের মধ্যে সম্পদের মালিকানার জন্য সরকার নির্ধারিত ১ হাজার নম্বরের মধ্যে যারা ৭৭৭ থেকে ৮১৪-এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ অতিদরিদ্র, দরিদ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হবেন, শুধু তারাই ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। এর বাইরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া অন্যরা সরকারি নানা সেবা পাবেন।’ সমাজসেবা অধিদপ্তরের বগুড়ার উপপরিচালক রকনুল হক বলেন, ‘নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুব দ্রুততার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করায় খুশি গ্রামের নারী জনগোষ্ঠী। আর তথ্য সংগ্রহের এই কাজটি দলীয় প্রভাবমুক্ত হওয়ায় সাধারণ গ্রামবাসীও সন্তোষ প্রকাশ করছেন। নির্ধারিত ব্যক্তির হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই-বাছাই কার্যক্রমটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি যাতে এই কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ১০ মার্চ সদর উপজেলার গোপালবাড়ি গ্রামের দরিদ্র নারীরাও প্রথমবার ফ্যামিলি কার্ডের বিপরীতে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা পাবেন।’

সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু

আপনার মতামত লিখুন
Ad Image
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর