পুতিনের বন্ধুত্বেরও সীমা আছে
খামেনিকে হত্যা
রাশিয়ার কথার সঙ্গে যে কাজের মিল থাকে না, তার নতুন উদাহরণ হলো ইরান। কোনো রকম সামরিক সহযোগিতা নয়, ইরানকে শুধু রাশিয়ার সহানুভূতি ও মৌখিক সমর্থন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে
বিশ্ববেলা ডেস্ক 8 সিরিয়া ও ভেনেজুয়েলার পর এবার ইরানও বুঝতে পারল রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব মানেই সহযোগিতার নিশ্চয়তা নেই। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে যখন তেহরান কেঁপে উঠছিল, তখন সহযোগিতার জন্য ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকরা মস্কোতে ফোন করেন। রুশ সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, অন্য প্রান্তে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগে লেভর্ভাব কোনো সামরিক সহযোগিতা নয় শুধু সহানুভূতি জানান এবং মৌখিক সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্রেমলিন নিজেকে ওয়াশিংটনের সমকক্ষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। নতুন মেরূকরণে নেতৃত্বস্থানীয় হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু মিত্র দেশগুলোর নেতারা আক্রমণের মুখে পড়লে চোখে পড়ার কোনো প্রতিক্রিয়া তারা দেখায়নি। ২০২৪ সালের শেষদিকে বিদ্রোহীরা যখন দামেস্কে ঢুকে পড়ে সিরিয়ার নেতা বাশার আল আসাদ বুঝেছিলেন রুশ সমর্থন তার শাসন টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে থাকা ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোও হয়তো ভাবছেন, তার যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন তার মিত্র ক্রেমলিন সহযোগিতার জন্য এলো না কেন? সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। রাশিয়ার কথার সঙ্গে যে কাজের মিল থাকে না, তার নতুন উদাহরণ হলো ইরান। কোনো রকম সামরিক সহযোগিতা নয়, ইরানকে শুধু রাশিয়ার সহানুভূতি ও মৌখিক সমর্থন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও তেহরানের জন্য মস্কোর এই নীরব প্রতিক্রিয়া অপ্রত্যাশিত হওয়ার কথা নয়। সবশেষ গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বড় হামলা চালিয়েছিল, ক্রেমলিনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সামরিক কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে শুধু নিন্দা জানিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি ইসলামী শাসনের বিরুদ্ধে যখন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ইরান। তখন প্রতিবাদ দমনে রুশ সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক খবর অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর রাশিয়া তেহরানকে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা থামানোর জন্য মস্কো নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করে এবং রুশ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সংরক্ষণের প্রস্তাব দেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও রাশিয়ার নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে যৌথ মহড়া চালায়, যদিও যে মহড়ায় মস্কো মাত্র একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠায়। পরে ক্রেমলিনের সহকারী নিকোলাভ পাটরুশভ চীনের অংশগ্রহণে হরমুজ প্রণালিতেও আরও মহড়া করার ঘোষণা দেন। কিন্তু গত শনিবারের হামলার সময় মস্কোর সামরিক সহায়তার কোনো ইঙ্গিতই ছিল না। যদিও রাশিয়া সহযোগিতা করতে বাধ্য নয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাশিয়া ও ইরান একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে, তাতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা করা হবে—এমন কোনো শর্ত ছিল না। সে সময় রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রে রুদেনকো স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এটি শুধু একটি সামরিক জোট। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করলেও, ক্রেমলিন তেহরানের হয়ে কোনো যুদ্ধে নামবে না। ইসরায়েলে ইরানের হামলার সময় রাশিয়া কেন নিরপেক্ষ ছিল, সে ব্যাপারে বলতে গিয়ে গত বছরের জুনে পিটার্সবার্গে অর্থনৈতিক ফোরামে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, ইসরায়েলে অন্তত ২০ লাখ প্রাক্তন সোভিয়েত নাগরিক বাস করেন, বলা যেতে পারে দেশটি প্রায় রুশভাষী।
সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু