মানুষ কেন ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আর চাঁদে যায়নি?
কালবেলা ডেস্ক 8 ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর চাঁদের বুকে শেষ পা রেখে জিন সার্নান বলেছিলেন, ‘আমরা যেমন এসেছিলাম, তেমনই বিদায় নিচ্ছি। ঈশ্বর চাইলে সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তি ও আশার বার্তা নিয়ে আমরা আবার ফিরব।’ তখন তিনি জানতেন না যে তার কথাই অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চাঁদে বলা মানুষের শেষ বাক্য হয়ে থাকবে। অ্যাপোলো-১৭-এর পর আর কোনো মানুষের পদচিহ্ন পড়েনি চাঁদে। এখন আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে সেই দীর্ঘ বিরতি ঘুচতে চলেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আবার চাঁদে যেতে এত দীর্ঘ অপেক্ষা কেন? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাসবিদ এবং স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের অ্যাপোলো সংগ্রহের কিউরেটর টিজেল মিউর-হারমোনি বলেন, উত্তরের শুরুটা রাজনৈতিক সদিচ্ছার অস্থিরতায়। অ্যাপোলো কর্মসূচির পর প্রতিটি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বদলে গেছে মহাকাশনীতির অগ্রাধিকার। বুশ থেকে ক্লিনটন, ওবামা থেকে ট্রাম্প—প্রত্যেকেই চাঁদে যাওয়ার পরিকল্পনা এনেছেন বা বাতিল করেছেন। ব্যতিক্রম শুধু জো বাইডেন, যিনি পূর্ববর্তী পরিকল্পনায় হস্তক্ষেপ করেননি। তবে শুধু রাজনীতি নয়, প্রযুক্তিগত বাস্তবতাও বড় চ্যালেঞ্জ। অ্যাপোলো যুগের শিল্প অবকাঠামো, কারিগরি দক্ষতা ও সরবরাহব্যবস্থা আজ আর নেই। নতুন করে সবকিছু গড়তে বিশাল অর্থ ও সময়ের প্রয়োজন। স্পেস শাটল চ্যালেঞ্জার ও কলম্বিয়ার বিপর্যয় মহাকাশ অভিযানের ঝুঁকির কঠিন বাস্তবতা মনে করিয়ে দিয়েছে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও সতর্ক করে তুলেছে। নাসার সাবেক স্পেস শাটল ম্যানেজার ওয়েন হেল একবার বলেছিলেন, ‘অ্যাপোলো প্রোগ্রামের সমস্যা ছিল একটাই—এটি শেষ হয়ে গিয়েছিল।’ আর্টেমিস কর্মসূচি তাই পুরোনো পথে হাঁটছে না। অ্যাপোলো যেখানে শুধু ‘পতাকা ও পদচিহ্ন’ রেখে এসেছিল, আর্টেমিস চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব বসতি গড়তে চায়। চাঁদের মেরু অঞ্চলে পানির সন্ধান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব এবং ৬০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তি—এবারের উদ্যোগ শুধু প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতারও। বাণিজ্যিক মহাকাশ শিল্পের উত্থানও এই পরিকল্পনাকে ত্বরান্বিত করেছে। এখন নাসা স্পেসএক্স, বোয়িং ও ব্লু অরিজিনের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক সম্প্রতি জানিয়েছেন, মঙ্গল গ্রহের আগে চাঁদে ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর’ গড়ে তোলাই কোম্পানির অগ্রাধিকার হতে পারে। অ্যাপোলো-পরবর্তী আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের অভিজ্ঞতা চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। নতুন এই মহাকাশ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং মানবসভ্যতার দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চাঁদে ফেরা এখন আর কেবল বৈজ্ঞানিক কৌতূহল নয়; বরং এক অনিবার্য প্রয়োজন। সূত্র: সিএনএন।
সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু