স্কুলের মাঠ ও আশপাশে বেশি গাছপালা লাগালে শহরের তাপমাত্রা কমানো যায়। এতে শিশুদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাও সহজ হয়। সম্প্রতি ইউরোপের একদল গবেষক এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিন বছর ধরে পরিচালিত ‘কুলস্কুলস’ নামে একটি গবেষণা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেয় স্পেনের উনিভার্সিতাত ওবেরতা দে কাতালুনিয়া ও উনিভার্সিতাত পলিতেকনিকা দে কাতালুনিয়া। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সাময়িকী ন্যাচার ক্লাইমেট চেঞ্জে।
গবেষকেরা বলেন, অনেক স্কুলের মাঠ পুরোপুরি কংক্রিটে তৈরি। এসব মাঠে গাছ বা ছায়া কম থাকে। ফলে গরমের সময় সেখানে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। এতে শিশুরা বেশি তাপের ঝুঁকিতে পড়ে। তারা অসুস্থও হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের শহরাঞ্চলের প্রায় ৪০ শতাংশ স্কুল ‘হিট আইল্যান্ড’ প্রভাবের মধ্যে আছে। অর্থাৎ শহরের কংক্রিট ও পাকা অবকাঠামোর কারণে এসব এলাকায় তাপমাত্রা বেশি থাকে। আবার প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে ৩০০ মিটারের মধ্যে পর্যাপ্ত সবুজ জায়গা নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্কুলের মাঠে গাছ লাগানো, ছায়া, বাগান ও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে পরিবেশ ঠান্ডা থাকে। এতে বায়ুদূষণও কমে। শিশুরা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে পারে। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো হয়। তারা পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে।
গবেষকেরা স্কুলকে ‘প্রকৃতিনির্ভর জলবায়ু আশ্রয়স্থল’ হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, স্কুল শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়। এটি একটি সামাজিক কেন্দ্রও। তাই স্কুলে সবুজায়ন বাড়ালে আশপাশের এলাকাও উপকৃত হবে।
তারা সতর্ক করে বলেছেন, তাপপ্রবাহ দিন দিন দীর্ঘ ও তীব্র হচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও বড় ঝুঁকিতে পড়বে। তাই শহর পরিকল্পনায় গাছপালা ও উন্মুক্ত প্রাকৃতিক স্থানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
গবেষকেরা স্কুলের মাঠ ও নগর এলাকায় সবুজায়নের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে আরও বাসযোগ্য, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল শহর গড়ে তোলা সম্ভব।
